/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/humayun-kabir-babri-masjid-foundation-west-bengal-politics-2025-12-09-18-23-52.jpg)
২৬-এ বাংলার মসনদে কে বসবে? জানিয়েই দিলেন হুমায়ুন কবীর
“আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এখনকার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক"। দল ঘোষণার আগে 'বোমা' ফাটালেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিছুটা ক্ষোভের সুরে তিনি বলেছেন, "আগে তিনি সবার কথা শুনতেন, মানুষের সমস্যার কথা বুঝতেন। এখন তিনি সাধারণ মানুষের থেকে দূরে সরে গেছেন। জেলা নেতৃত্ব আমার সঙ্গে কথা বলেছিল, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী আমার কথা শোনেননি।”
হুমায়ুন কবীর আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত রাজনৈতিক পরামর্শদাতাদের দ্বারা বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, “আজ তৃণমূল কংগ্রেস চালাচ্ছে আইপ্যাক। আগে ছিলেন প্রশান্ত কিশোর, এখন প্রতীক জৈন। কারা দলে থাকবে, কারা বাদ পড়বে এই সব সিদ্ধান্ত তাঁদের পরামর্শেই নেওয়া হচ্ছে।”
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর এনডিটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মুর্শিদাবাদের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ সম্পূর্ণ করা হবে এবং কোনও রাজনৈতিক শক্তি বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষই সেই কাজ আটকাতে পারবে না। তাঁর কথায়, “এটা অযোধ্যা নয়, এটা মুর্শিদাবাদ। এখানে কেউ এসে বাবরি মসজিদে হাত দিতে পারবে না।”
বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আরও জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে। ৬৪ বছর বয়সি বিধায়কের বক্তব্য, ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার পর থেকেই তিনি মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েই নিয়েছিলেন। পরে ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিতর্কিত জমি রামমন্দিরের জন্য বরাদ্দ হওয়ার পর তিনি চূড়ান্তভাবে ঠিক করেন, বাবরি মসজিদ এবার অন্যত্র গড়ে তুলবেন তিনি। হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিয়েছি। কিন্তু সেই রায়ই আমাকে নিশ্চিত করেছে যে বাবরি মসজিদ অন্য জায়গায় তৈরি হতেই হবে। আমার বাবরের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এই নাম রাখা হয়েছে কারণ আজও অনেক মানুষের মনে সেই ঘটনার যন্ত্রণা রয়ে গেছে। যদি নির্বাচনের সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ঠিক হয়, তাহলে ‘আল্লাহু আকবর’ বলাটাও ঠিক।”
দাপুটে এই রাজনীতিবিদের আরও দাবি, মসজিদ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, সমর্থক ও দাতাদের কাছ থেকে দু কোটিরও বেশি টাকা দান বাবদ আদায় হয়েছে এবং সেই অর্থ তাঁর বাড়ির একটি ঘরে সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, ২৫ বিঘা জমি কেনা হয়েছে এবং তার কাগজপত্রের কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রস্তুতি শুরু হবে এবং তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ সম্পূর্ণ হবে। প্রতি শুক্রবার সেখানে নামাজ পড়া হবে এবং ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ ইট সেখানে পৌঁছে গেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই সিদ্ধান্তই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, নিজে থেকে দল ছাড়েননি, বরং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে বহিষ্কার করেছেন।
সাসপেন্ড হলেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন কবীর। বরং চলতি মাসের শেষেই নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। আগামীকাল ২২ ডিসেম্বর বহরমপুরে একটি জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দলের ঘোষণা করা হবে বলে দাবি করেছেন তিনি, যেখানে এক লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে বলেও তাঁর দাবি। তাঁর বক্তব্য, নতুন দল রাজ্যের ১৩৫টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে এবং বিজেপি ও তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি।
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরের সমস্ত দাবি খারিজ করেছে। দলের নেতারা তাঁর বক্তব্যকে অবাস্তব বলে কটাক্ষ করেছেন এবং রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতেই তিনি এমন মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন।
আরও পড়ুন-‘আমাকে বাঁচাও' কথা শেষের আগেই ঝলসে গেল সাত বছরের ছোট্ট আয়েশা, ইউনূসের বাংলাদেশে হচ্ছে টা কী?
শতদ্রু দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকে বাজেয়াপ্ত ২২ কোটি টাকা, এবার কি ফেরত পাওয়া যাবে টিকিটের দাম?
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us