/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/humayun-kabir-jup-bengal-politics-2026-02-02-12-17-55.jpg)
হুমায়ুন কবীর সম্পর্কে ভোটের আগে 'বোমা' ফাটালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সম্পর্কে ভোটের আগে 'বোমা' ফাটালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। গতকালই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে 'বিস্ফোরক' অভিযোগ এনে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র চেয়ারম্যান। ঠিক তারপরই ভরতপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক সম্পর্কে রাজ্য বিজেপি সভাপতির বিরাট এই মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
#WATCH | Delhi | West Bengal BJP President Samik Bhattacharya says, "He is Trinamool Congress's Plan-B. Humayun is TMC, TMC is Humayun. Mamata Banerjee bows down in front of all these radicalised people. Her agenda is to fight the elections after dividing the whole society on the… pic.twitter.com/2p61Upw7SN
— ANI (@ANI) February 1, 2026
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কংগ্রেসের “বি টিম” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “হুমায়ুন হলেন তৃণমূল, এবং তৃণমূল হলেন হুমায়ুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সমস্ত মৌলবাদীদের কাছে মাথা নত করেন। তাদের এজেন্ডা হল ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করে নির্বাচন লড়া।”
আরও পড়ুন- মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আগেই বড় মোচড়! বাংলা ভাগের দাবিতে সুর চড়ালেন BJP-র সাংসদ
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের পর হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) নামে নিজের দল গঠন করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংককে রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদে একটি বিশাল সমাবেশও করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এআইএমআইএম-এর রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি। তিনি AIMIM-এর সঙ্গে জোটের কথাও ঘোষণা করেছেন। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, তিনি নির্বাচনে বিজেপিকে ১০০-এর বেশি এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ৫০-এর বেশি আসন জিততে দেবেন না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন একটা বড় ফ্যাক্টর হতে পারে তৃণমূলের জন্য। কারণ তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসাতে পারেন হুমায়ুন কবীর।
আরও পড়ুন- যেন লটারি লাগল! হুড়মুড়িয়ে কমল সোনার দাম, রূপার দরে রেকর্ড পতন
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি বাংলা দখলে মরিয়া। সেই লক্ষ্যে দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বাংলায় একাধিক সভা করেছেন। আগামীদিনে আরও সভা সমাবেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। লক্ষ্য দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা এবং ভোটের আগে রণকৌশল নির্ধারণ করা। ঠিক তার আগে শমীক ভট্টাচার্য্যের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে হুমায়ুন কবীর মন্তব্য করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে হয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র আলোড়ণ সৃষ্টি হয় বঙ্গ রাজনীতিতে। শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের মরাদিঘিতে তাঁর নতুন দলের ব্যানারে আয়োজিত এক জনসভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর তাঁর অতীতের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যে যাঁরা আঘাত পেয়েছেন, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন, তাঁদের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এমন ভুল আর কখনও হবে না।” তিনি দাবি করেন, লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূলের প্রার্থী ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর) ও আবু তাহের খান (মুর্শিদাবাদ)-এর জয়ের সম্ভাবনা কম থাকায় তাঁকে এমন বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল।
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, জেলায় একটি তৃণমূলের সভায় ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে এই নির্দেশ দেন। তাঁর কথায়, বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথের বক্তব্যের মোকাবিলায় তাঁকে কড়া ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করতে হয়েছিল। “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে আলাদা করে বলেছিলেন কিছু করার জন্য। সেই কারণেই আমি ওই সব কথা বলেছিলাম,” বলেন কবীর।
তবে হুমায়ুন কবীরের এই দাবি সরাসরি খারিজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি ও কান্দি বিধানসভার বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, “২০২৪ সালের ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর সব সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম। কখনও তাঁকে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে দেখিনি। ও যা বলছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
হুমায়ুন কবীর জানান, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করার চেষ্টা করলেও সেনার কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আশাবাদী, মার্চের শেষ সপ্তাহে অনুমতি মিললে সেখানে বড় সভা করা হবে। সেই সভায় AIMIM নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি ও আইএসএফ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও জানান তিনি। “বাংলায় তৃণমূল বা বিজেপি কেউই সরকার গড়বে না। কে সরকার গড়বে, তা আমরা ঠিক করব।” শনিবারের সভায় AIMIM, SDPI, অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন মুসলিম লিগ এবং আজাদ সমাজ পার্টির প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us