/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/humayun-kabir-new-party-west-bengal-minority-vote-opposition-unity-2025-12-18-10-09-36.jpg)
Humayun Kabir new party: হুমায়ুন কবীর।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ‘হিন্দু তোষণ’-এর অভিযোগ তুললেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোট তাঁর দিকেই ঝুঁকবে। সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সদ্য গঠিত তাঁর রাজনৈতিক দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) আগামী নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটের প্রধান দাবিদার হবে এবং তৃণমূল ২৬-এ সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাতে পারবে না।
আরও পড়ুন-Khaleda Zia: খালেদা জিয়া কি ভারতীয় ছিলেন? বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর পর নতুন বিতর্ক
বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য, “২০২৬ সালে সংখ্যালঘু ভোট আমাদের দিকেই ঝুঁকবে। সংখ্যালঘু ভোটাররা তাদের নিজেদের প্রতিনিধিত্ব চান। প্রয়োজনে আমি ২০০ জন প্রার্থী দেব, যার মধ্যে ৯০ জন হবেন মুসলিম।” তাঁর দাবি, তৃণমূল ‘সাম্প্রদায়িক রাজনীতি’ করছে এবং হিন্দু তোষণের পথেই হাঁটছে।
তাঁর অভিযোগ, “২০২৬ সালের নির্বাচনে হিন্দু বনাম মুসলিম ভোটের স্পষ্ট বিভাজন দেখা যাবে। শুভেন্দু অধিকারী হিন্দু রাজনীতি করছেন, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ, দুর্গাপুজো কার্নিভাল আয়োজন ও পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিয়ে হিন্দু তোষণ করছেন।” তিনি আরও বলেন, “আমি মুসলিমদের নেতা হব। আমাদের মূল লক্ষ্যই হবে মুসলিম ভোট।”
নিউ টাউনে দুর্গা দেবীকে উৎসর্গ করে ‘দুর্গা অঙ্গন’ সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন হুমায়ুন কবির। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থ এভাবে খরচ করা যায় না। একই সঙ্গে বিজেপির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। “বিজেপি কেন আদালতে যাচ্ছে না? তাহলে কি ধরে নিতে হবে বিজেপি ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে কোনও বোঝাপড়া আছে?”প্রশ্ন তাঁর।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেরও পাল্টা জবাব দেন হুমায়ুন কবির। অভিষেক বলেছিলেন, মন্দির-মসজিদ নির্মাণের অধিকার সকলের আছে, তবে রাজনীতির সঙ্গে তা মেশানো উচিত নয়। এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, “এই পরামর্শ যদি আমার জন্য হয়, তবে তা তাঁর পিসি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত।”
বাবরি ধাঁচের মসজিদ নির্মাণ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তিনি নির্মাণকাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদে ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর থেকেই পুলিশ তাঁকে টার্গেট করে হয়রানি শুরু করেছে।
আরও পড়ুন-Khaleda Zia death: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বড় সিদ্ধান্ত BNP-এর
রবিবার তাঁর ছেলে গুলাম নবী আজাদ ওরফে রবিনকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এ বিষয়ে হুমায়ুন কবিরের দাবি, তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা করার চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিনা নোটিসে পুলিশ তাঁর বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখাচ্ছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, “কলকাতা থেকে নির্দেশ এনে যদি কেউ ভাবে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে পুলিশ মাপজোখ করছে। আমার পরিবার বা সম্পত্তিতে হাত দিলে তার ফল ভোগ করতে হবে। পুলিশকে আমি জবাব দেব।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us