/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/humayun-kabir-new-party-west-bengal-minority-vote-opposition-unity-2025-12-18-10-09-36.jpg)
দল গড়ার আগেই হুমায়ুনের হুঙ্কার!
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আগামী ২২ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা করেছেন। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল ১৩৫টি আসনে প্রার্থী দেবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে এই রাজনৈতিক লড়াই শুরু করতে চাইছেন বলে দাবি হুমায়ুন কবীরের।
বুধবার বিধানসভার স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠকে যোগ দিতে তিনি বিধানসভায় হাজির হন। পাশাপাশি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ার অবস্থানে অনড় থাকেন। বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পর তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করলেও রাজনৈতিকভাবে লড়াই আরও তীব্র করার বার্তা দেন হুমায়ুন কবীর।
তিনি বলেন, “যাঁরা আমাকে বিধায়ক বানিয়েছেন, তাঁরাই অনুরোধ করেছেন এখনই পদত্যাগ না করতে। নির্বাচনের মুখে তাঁরা সাংসদ ইউসুফ পাঠানের সঙ্গে যোগাযোগই করতে পারছেন না। তিনি গুজরাতে থাকেন এবং বাংলায় খুব কমই আসেন। তাই মানুষের কথাই মেনে নিয়েছি।”
নতুন দল ঘোষণার প্রস্তুতি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন হুমায়ুন কবীর। তবে তাঁর দাবি, বেলডাঙার কর্মসূচিতে প্রায় চার লক্ষ সমর্থক উপস্থিত হতে পারেন। যদিও প্রশাসনকে তিনি জানিয়েছেন, আনুমানিক ৫০ হাজার লোকের জমায়েত হবে। ওই দিনই তিনি ৭৫ সদস্যের রাজ্য কমিটি ঘোষণা করবেন, যার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতিও থাকবেন।
হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করেছেন, তাঁর নতুন দলে এআইএমআইএম-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “আমি নিজের দল গড়ছি। পরে দেখব কোন কোন দলকে নিয়ে জোট গড়া যায়।” তাঁর লক্ষ্য, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মেদিনীপুরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলা।
এআইএমআইএম ইতিমধ্যেই জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত জানালেও, কংগ্রেস, সিপিআই(এম) এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে হাত মেলানোর সম্ভাবনা খোলা রাখছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর বক্তব্য, “আমি একা হলেও বিধায়ক। যাঁদের সঙ্গে জোট চাইছি, তাঁদের অনেকেরই বাংলায় আসন সংখ্যা শূন্য। নওশাদ একা, আমিও একা। ওঁরা চাইলে আসতে পারেন, না হলে শূন্যই থাকবেন।”
এই প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি জানান, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করার পক্ষে তিনি নন। তবে জোটের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। তাঁর কথায়, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়া যায়, কিন্তু রাজনীতির মূল বিষয় হওয়া উচিত কাজ ও শিল্প। মুর্শিদাবাদে অধিকাংশ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক।”
নৌশাদ আরও বলেন, “২২ ডিসেম্বরের পর দেখা যাবে হুমায়ুন কবীর কী চান, তাঁর লক্ষ্য কী। যদি তা ধর্মনিরপেক্ষ হয়, তবে আলোচনা হতে পারে।” পাশাপাশি তিনি জানান, কংগ্রেস ও বামফ্রন্টের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে দ্বিতীয় দফার আলোচনা চলছে।
প্রায় ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে ছোট দলগুলির এই প্রতিযোগিতা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের মত। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোটের বড় অংশ নিজেদের দখলে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের নতুন দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
আরও পড়ুন- খোদ মমতার বিধানসভাতেই হাজারে হাজারে নাম বাদ! পরিসংখ্যান জানলে চমকে যাবেন, কড়া অবস্থানে শাসক দল
আরও পড়ুন-বিকট শব্দে ভরদুপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত্যু, তুমুল চাঞ্চল্য, তোলপাড়
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us