/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/27/humayun-2025-10-27-11-23-20.jpg)
Humayun Kabir: ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
জনতা উন্নয়ন পার্টি (JUP)-র সুপ্রিমো তথা ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ ওরফে সোহেলকে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, নিজের বাড়িতে কর্মরত এক পুলিশ কনস্টেবলকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছেন তিনি। মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধায়কের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল জুম্মা খাঁ কয়েক দিনের ছুটির আবেদন জানাতে রবিবার সকালে হুমায়ুন কবিরের শক্তিপুরের বাড়িতে যান। সেই সময়ই গোলাম নবী আজাদ তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন- জেমসের কনসার্টে মৌলবাদীদের তাণ্ডব, বানচাল হল অনুষ্ঠান, ক্ষোভে ফুঁসলেন তসলিমা
কনস্টেবলের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই আজাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। এদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “বিধায়কের ছেলে একজন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীর গায়ে হাত তুলেছেন, যা একটি গুরুতর অপরাধ। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।” তাঁর দাবি, কনস্টেবল ব্যক্তিগত কারণে ছুটির আবেদন জানাতে গেলে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলে শুধু বাড়ির ভিতরে পুলিশ কর্মীর প্রবেশে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই পুলিশ মিথ্যা অভিযোগ চাপাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর পুলিশ শক্তিপুরে তাঁর বাড়ি ঘিরে রেখেছে, যা একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রতি অন্যায় আচরণ।
আরও পড়ুন-Migrant worker killing: ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক খুন, তদন্তে পড়শি রাজ্যে পুলিশ পাঠালেন মমতা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্দেশেই তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “তুচ্ছ অজুহাতে একজন বিধায়কের বাড়ি ঘিরে রাখা যায় না। আমার ছেলেকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। অবিলম্বে তাঁর মুক্তি চাই।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী ১ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের দপ্তর ঘেরাও করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হবে পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের। কাউকে ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন হুমায়ুন কবির। এরপরই তিনি জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন এবং ঘোষণা করেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে প্রার্থী দেবে তাঁর দল। পাশাপাশি, হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির নেতৃত্বাধীন AIMIM-এর সঙ্গে জোট গঠনের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। হুমায়ুন কবির আরও অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের প্রকৃত উন্নয়ন না করে শুধুমাত্র ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ করে চলেছেন।
আরও পড়ুন- বিধানসভা ভোটের আগে বড় চমক! ওয়েইসির AIMIM-এর সঙ্গে জোটের প্রস্তাব হুমায়ুন কবীরের
এদিকে রবিবারের ঘটনার প্রেক্ষিপ্তে জেলা সাইবার পুলিশের একটি দল বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের বাসভবন থেকে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ওই ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সে কারণে সম্পূর্ণ ডিভিআর (DVR) ও স্টোরেজ ডিভাইস সোমবার সাইবার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা তথ্য বিশ্লেষণ করবেন।
এদিকে, ঘটনার অভিযোগের ভিত্তিতে বিধায়ক হুমায়ুন কবির ও তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবিন দু’জনের বিরুদ্ধেই জামিনঅযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, আটক অভিযুক্ত গোলাম নবী আজাদ ওরফে রবিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নোটিস ধরিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত চলবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জেলা রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us