/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/india-bangladesh-tension-ivac-closed-dhaka-security-threat-yunus-2025-12-18-09-50-19.jpg)
ইউনূসকে চরম হুঁশিয়ারি মোদী সরকারের
প্রথমে হুমকি, তারপর কূটনৈতিক সমন! মহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিল ভারত। ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (IVAC) বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি। ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জারি করা এক নোটিশে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হচ্ছে।
ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, চরমপন্থী গোষ্ঠীর হুমকি এবং বাংলাদেশি কয়েকজন নেতার উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে ঢাকায় ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত প্রধান IVAC কর্তৃপক্ষ জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে কেন্দ্রটি দুপুর ২টো থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকা বহু আবেদনকারী সমস্যায় পড়েছেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ভারতের মোট ১৬টি ভিসা আবেদন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বছরে প্রায় ২২ লক্ষ আবেদন প্রক্রিয়া করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের আগে ভারত সরকার ঢাকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী ভারতীয় হাইকমিশনের আশপাশে অশান্তি সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ভারতের বিরুদ্ধে যে ‘ভুয়ো অভিযোগ’ তোলা হচ্ছে যেটা স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
এর মধ্যেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন লক্ষ্য করে বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বুধবার ‘জুলাই ঐক্য’ ব্যানারে কয়েকশো বিক্ষোভকারী গুলশান এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রামপুরা ব্রিজের কাছে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা হলেও পরে কড়া পুলিশি অবরোধে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা গিয়েছে, এই বিক্ষোভকারীরা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীর সমর্থক। তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দেশ ছেড়ে যাওয়া অন্যান্য নেতাদের ফেরানোর দাবিতে রাস্তায় নামে। ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এই আবহেই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর ভারত-বিরোধী মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। ১৫ ডিসেম্বর এক সমাবেশে তিনি হুমকি দেন, বাংলাদেশ অস্থিতিশীল হলে সেই প্রতিরোধের আগুন ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে ছড়িয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার আবারও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। গত বছরের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি ভারতে রয়েছেন। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্রমশ টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রক জানায়, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষেই ভারত। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের কাছে সব বিদেশি হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশাও করেছে নয়াদিল্লি। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে ভারত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-বিকট শব্দে ভরদুপুরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ঝলসে মৃত্যু, তুমুল চাঞ্চল্য, তোলপাড়
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us