/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/modi-2026-01-27-12-27-09.jpg)
India-EU Trade Deal: দিল্লিতে বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা (বামে) এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েনকে স্বাগত জানান। (এপি)
India-EU Summit: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে হতে চলা ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (FTA)-কে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বা সমস্ত চুক্তির জননী হিসেবে অভিহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ভার্চুয়ালি ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইক’-এর উদ্বোধনে এসে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই চুক্তি ভারতের উৎপাদন শিল্পে (Manufacturing) জোয়ার আনবে এবং পরিষেবা ক্ষেত্রকে (Services Sector) আরও প্রসারিত করবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর আজই এই চুক্তির সফল সমাপ্তির ঘোষণা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই চুক্তি বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীদের এবং বিনিয়োগকারীদের ভারতের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
চুক্তির মূল ফোকাস এবং প্রভাব
ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির পর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই বোঝাপড়া ভারতের অর্থনীতি ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে (Supply Chain) নতুন শক্তি জোগাবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই চুক্তির ফলে ভারতের একাধিক শ্রম-নিবিড় শিল্প লাভবান হতে চলেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বস্ত্রশিল্প,রত্ন ও অলঙ্কার (Gems and Jewelry),চামড়াশিল্প (Leather) ও পাট শিল্প (Jute)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গোটা বিশ্বজুড়ে মানুষ একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে আলোচনা করছেন। এই চুক্তি বিশ্বের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করে। এর ফলে ১৪০ কোটি ভারতবাসী এবং ইউরোপের কোটি কোটি মানুষ বিপুল সুযোগ পাবেন।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান
সরকারি সূত্রে খবর, এই চুক্তির জন্য ২১টি অধ্যায়ের আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আজ দিল্লিতে আয়োজিত ‘ভারত-ইইউ সামিট’-এ দুই পক্ষ আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘোষণা করবে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।
আইনি যাচাইকরণ বা ‘লিগাল স্ক্রাবিং’-এর জন্য ৪-৫ মাস সময় লাগতে পারে। আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর এই বছরের শেষের দিকে হবে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর আগামী বছরের শুরু থেকে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রথম এই আলোচনা শুরু হলেও অটোমোবাইল বা গাড়ি শিল্পের বাজার নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে ২০১৩ সালে তা থমকে গিয়েছিল। এবারে ভারত ইউরোপীয় গাড়ি এবং মদের (Alcoholic beverages) জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- “ইডি পারেনি, বিজেপিও পারবে না! বাংলায় ফের দিদিই ফিরছেন”, ভবিষ্যদ্বাণী অখিলেশের
এই চুক্তিটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আমেরিকার বাণিজ্য নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এবং অন্যদিকে চিনের একাধিপত্য, এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত ও ইইউ কাছাকাছি এসেছে।
সৌরশক্তি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে চিনের একচেটিয়া দাপট ও সস্তা পণ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই জোট সহায়ক হবে। এরই পাশাপাশি আমেরিকার উচ্চ শুল্ক নীতির কারণে ভারত ও ইউরোপ, উভয় পক্ষই নতুন বাজারের সন্ধানে ছিল। মোদী এদিন আরও বলেন, বাণিজ্যের পাশাপাশি এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতিকেও শক্তিশালী করবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us