/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/07/modi-trump-2025-08-07-09-34-14.jpg)
Donald Trump Gaza Peace Plan: গাজা ভূখণ্ডে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়া নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে দিল্লি।
India US Relations: গাজা ভূখণ্ডে শান্তি ফেরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়া নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি। একদিকে আমেরিকার আমন্ত্রণ, অন্যদিকে পাকিস্তানের উপস্থিতি, সব মিলিয়ে রীতিমতো ধর্মসংকটে সাউথ ব্লক। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর।
পশ্চিম এশীয় রাজনীতিতে ভারত বরাবরই মেপে পা ফেলে। শক্তি নিরাপত্তা এবং ওই অঞ্চলে কর্মরত ৯০ লক্ষ ভারতীয়ের স্বার্থরক্ষা, এই দুই কারণে ভারত কোনোও একটি পক্ষের দিকে ঝুঁকতে চায় না। কিন্তু ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া বা না দেওয়া, দুই ক্ষেত্রেই ভারতের সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন- সৌদি-পাকিস্তানের দহরম-মহরমের মাঝেই ভারতের বড় চাল! আরব আমিরশাহির সঙ্গে কী চুক্তি করলেন মোদী?
ভারতের সামনে ৫টি বড় চ্যালেঞ্জ
১. ট্রাম্পের ‘মুড’ ও শুল্কের হুমকি:
ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত খামখেয়ালি স্বভাবের। ভারতের ওপর ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে আমেরিকা। তার ওপর ভারত-পাক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্প দাবি করলেও, ভারত তা স্বীকার করেনি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে তিনি অপমানিত বোধ করতে পারেন, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে।
আরও পড়ুন- West Bengal News Live: রাজনীতি নাকি নিছকই সেবা? ভোটের মুখে আজ 'সেবাশ্রয়' পরিদর্শনে অভিষেক
২. রাষ্ট্রপুঞ্জ বনাম ট্রাম্পের বোর্ড:
ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) ভূমিকাকেই অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু ট্রাম্পের এই ‘পিস বোর্ড’ রাষ্ট্রপুঞ্জের সমান্তরাল একটি ব্যবস্থা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দিল্লি। জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলিও মনে করছে, এই বোর্ডের কারণে রাষ্ট্রপুঞ্জের গুরুত্ব খর্ব হতে পারে। দিল্লি কোনোভাবেই রাষ্ট্রপুঞ্জকে দুর্বল করে এমন কোনো উদ্যোগে শামিল হতে চায় না।
৩. পাকিস্তান ফ্যাক্টর:
সবথেকে বড় অস্বস্তির কারণ হল পাকিস্তান। এই বোর্ডে পাকিস্তানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারত যদি এই বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর বা অন্য ইস্যুতে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাবে পাকিস্তান।
আরও পড়ুন-বাবার রিক্সা, মায়ের সেলাই, দারিদ্র্যকে হারিয়ে জাতীয় মঞ্চে ব্রোঞ্জ জয় বাংলার চন্দনের!
৪. বোর্ডের এক্তিয়ার:
ট্রাম্পের এই বোর্ডের নাম ‘গাজা পিস বোর্ড’ হলেও এর এক্তিয়ার বা চার্টার শুধু গাজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর পরিধি আরও বিস্তৃত। এখানেই দিল্লির ভয়ের কারণ। ভবিষ্যতে এই বোর্ড কাশ্মীর বা ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে নাক গলাবে না তো? এই আশঙ্কা থেকেই পিছিয়ে আসছে দিল্লি।
৫. বন্ধু দেশগুলির অবস্থান:
ভারত একা সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। রাশিয়া জানিয়েছে, পুতিন আমন্ত্রণ পেয়েছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ব্রিটেন মিত্র দেশগুলির সঙ্গে কথা বলছে। তবে ফ্রান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা সম্ভবত যোগ দেবে না, কারণ এই বোর্ড রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিকাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্যদিকে, ইজরায়েলকে এই বোর্ডে ডাকাই হয়নি, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ নেতানিয়াহুর দপ্তর। উল্টে ইজরায়েলের শত্রু হিসেবে পরিচিত তুরস্ক এবং পাকিস্তানকে ডাকা হয়েছে।
আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতিতেই বিশ্বাসী নয়াদিল্লি। ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতদূর গড়ায় এবং বন্ধু দেশগুলি কী অবস্থান নেয়, তা দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us