/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/india-withdraws-diplomats-families-from-bangladesh-security-concerns-2026-01-21-08-55-21.jpg)
বাংলাদেশে মেধাবী হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার রহস্য মৃত্যু, অবশেষে বিরাট পদক্ষেপ নিয়েই নিল ভারত
বাংলাদেশে নিখোঁজ হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার রহস্য মৃত্যু, সাত দিন পর নদী থেকে উদ্ধার দেহ।
বাংলাদেশের নওগাঁ জেলায় নিখোঁজ থাকার সাত দিন পর এক হিন্দু কলেজ পড়ুয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের নাম অভি। তিনি নওগাঁর একটি সরকারি কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরিবারের দাবি, গত ১১ জানুয়ারি পারিবারিক বিবাদের জেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান অভি। এরপর থেকেই তাঁর আর কোনও খোঁজ মিলছিল না।
ছেলের খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার ও আত্মীয়স্বজন টানা এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ চালান। পরে নওগাঁ শহরের কালীতলা শ্মশানঘাটের কাছে একটি নদীতে ভাসমান দেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে।
পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহের পরনে থাকা পোশাক দেখে অভিকে শনাক্ত করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা না কি কোনও অপরাধমূলক ঘটনার ফল সে বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও চূড়ান্ত বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন- দেশে ফিরলেই লাশ হতে হবে! ভারতের হাজতবাসকেই ‘স্বর্গ’ মানছেন ৪ বাংলাদেশি
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কীভাবে নিখোঁজ হওয়ার পর অভির মৃত্যু হল এবং এর পিছনে কোনও কোন শত্রুতার ঘটনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বিশেষ করে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অভির মৃত্যুকে কোনও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়নি, তবুও সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের ধারাবাহিক ঘটনায় এই মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলবে। ততদিন পর্যন্ত এক তরুণ ছাত্রের অকাল ও রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে শোক ও উৎকণ্ঠার আবহে রয়েছে গোটা এলাকা।
আরও পড়ুন- মোদীর পাল্টা এবার সিঙ্গুরে মমতাও! ভোটের আগে ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াইয়ে তৈরি তৃণমূল
এদিকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সে দেশে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সরকারি সূত্র পিটিআই-কে জানিয়েছে, “বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বাংলাদেশে হাইকমিশন ও অন্যান্য পোস্টে কর্মরত ভারতীয় আধিকারিকদের নির্ভরশীল পরিবারগুলিকে ভারতে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।” তবে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশন এবং সব সহকারী হাইকমিশন আগের মতোই খোলা থাকবে এবং পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ চালিয়ে যাবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে কার্যত ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভারত। অর্থাৎ কূটনীতিকরা সেখানে কর্মরত থাকলেও তাঁদের পরিবার সেখানে বসবাস করবে না। সূত্রের দাবি, চরমপন্থী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির কারণে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুন- SIR নিয়ে তোলপাড় বাংলা, তড়িঘড়ি বিরাট সিদ্ধান্ত নিল কমিশন
ঢাকা হাইকমিশন ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশন থেকে আধিকারিকদের পরিবারকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও কবে পরিবারগুলি ভারতে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে কতজন ভারতীয় কূটনীতিক কর্মরত আছেন, তাও প্রকাশ করা হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ হল ভারতীয় কূটনীতিকদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলির একটি। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ‘নো চিলড্রেন পোস্টিং’ চালু রয়েছে এবং সেখানে শুধুমাত্র স্বামী বা স্ত্রীদের থাকার অনুমতি রয়েছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তা বেড়েছে বলে ভারতের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানপন্থী কিছু গোষ্ঠীকে কার্যত স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভারত আগেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যদিও ঢাকার তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপের দিকেও প্রশাসন নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের সামনে বিক্ষোভের জেরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে হিংসাত্মক বিক্ষোভও হয়।
আরও পড়ুন- সুপ্রিম ধাক্কার পর কমিশনের উপর আরও চাপ বাড়ালো তৃণমূল, ভোটের আগেই খেলা শুরু অভিষেকের
এই আবহেই বাংলাদেশের আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে ভারত। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এবারের নির্বাচনে বিএনপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পারে। সম্প্রতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের তাঁর পুত্র ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us