/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/indira-gandhi-indias-iron-lady-108th-birth-anniversary-2025-11-19-14-05-30.jpg)
দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে কেন 'ভারতের আয়রণ লেডি' বলা হয়?
Indira Gandhi Jayanti 2025:ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য পরিচয়ের অধিকারিণী। পিতা পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরুর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হওয়া সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্ত, দূরদর্শিতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
দেশ-বিদেশে তিনি পরিচিত ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে। যে উপাধি এসেছে তাঁর অটল মনোবল, সাহসী সিদ্ধান্ত এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা থেকে। প্রয়াগরাজে (তৎকালীন এলাহাবাদ) অভিজাত নেহরু পরিবারে জন্ম (১৯ নভেম্বর, ১৯১৭) নেওয়া ইন্দিরা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে আজ দেশ তার অসামান্য অবদান ও নেতৃত্বকে স্মরণ করছে।
আরও পড়ুন- নীতীশ 'ম্যাজিকে' মাতোয়ারা বিহার, আগামীকালই শপথ, মোদীর উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজন
১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব পাকিস্তানের নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হন এবং লক্ষাধিক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক দক্ষতা এবং সামরিক কৌশল প্রয়োগ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এই সিদ্ধান্ত তাকে দেশ-বিদেশে বিরল জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
১৯৭৪ সালে পোখরান-১ পারমাণবিক পরীক্ষার মাধ্যমে ভারতকে প্রথমবার শক্তিধর পারমাণবিক রাষ্ট্রের মর্যাদায় পৌঁছে দেন ইন্দিরা গান্ধী। আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং বড় শক্তিগুলির সতর্কবার্তা সত্ত্বেও এই সাহসী পদক্ষেপ ভারতকে বিশ্বমঞ্চে নতুন পরিচয় দেয়—ক্ষমতাশালী, আত্মনির্ভর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে।
আরও পড়ুন- পুলিশ কুকুরের তল্লাশিতে মিলল নিখোঁজ শিশুর দেহ, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
অর্থনৈতিক নীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন। ১৯৬৯ সালে ১৪টি প্রধান ব্যাংক জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত ছিল দেশের অর্থনীতিকে গণমুখী করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তার এই সিদ্ধান্ত কৃষক, শ্রমিক, নারী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংক পরিষেবার আওতায় এনে আর্থিক প্রবাহে বড় পরিবর্তন ঘটায়। আজও এই নীতিকে ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
যুদ্ধের হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ—সব পরিস্থিতিতেই ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন দৃঢ় ও অচঞ্চল। তার নেতৃত্বের ধরন প্রমাণ করেছিল যে কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসী সিদ্ধান্তই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং অদম্য সাহসী নেত্রী, যিনি ভারতকে আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথ সুগম করেছিলেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us