/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/02/indore-bhagirathpura-contaminated-water-deaths-nhrc-probe-2026-01-02-11-40-34.jpg)
পানীয় জলে বিষ? বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, বিজেপি শাসিত রাজ্যে চূড়ান্ত অব্যাবস্থার বিরাট অভিযোগ
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ভাগীরথপুরা এলাকায় দূষিত পানীয় জল পান করে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৫। বৃহস্পতিবার মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজের ল্যাব রিপোর্টে এই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়েছে। মুখ্য স্বাস্থ্য (CMHO) ডা. মাধব হাসানি জানান, পরীক্ষার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে অনিরাপদ পানীয় জলই এই প্রাণহানির মূল কারণ। ইন্দোরের জেলাশাসক শিবম ভার্মা বলেন, বিস্তারিত ও কালচারাল টেস্ট এখনও চলছে এবং সম্পূর্ণ রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী ঘোষণা করা হবে। ভগীরথপুরা এলাকাটি রাজ্যের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা ইন্দোর ১ এর বিধায়ক কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বিধানসভা এলাকার মধ্যে।
আরও পড়ুন-নতুন বছরের শুরুতেই ঝরল রক্ত, তৃণমূলের দাপুটে নেতা খুনের নেপথ্যে কি পরিচিতরাই?
আরও পড়ুন- শীত হোক বা উইকেন্ড, কলকাতার কাছে 'সেরার সেরা' এই ৫ পিকনিক স্পট মিস করবেন না
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিপ্তে কৈলাস বিজয়বর্গীয় স্বীকার করেছেন যে ভাগীরথপুরার জল সংকট গুরুতর আকার নিয়েছে। তাঁর মতে, পানীয় জলের লাইনে নিকাশি জল মিশে যাওয়ার ফলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পাইপ লাইনে লিকেজ থাকার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যে গোটা ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের মুখ্য সচিবকে নোটিস পাঠিয়ে দু’সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত পানীয় জলে নানা ধরনের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। নিকাশি জলে সাধারণত মল-মূত্র, স্নানঘরের জল, কাপড় ধোয়ার সাবান ও ডিটারজেন্ট, বাসন ধোয়ার রাসায়নিক, এমনকি বাণিজ্যিক এলাকার ক্ষতিকর বর্জ্য মিশে থাকে। এই সমস্ত বর্জ্য যদি পানীয় জলের লাইনে ঢুকে পড়ে, তাহলে তা অত্যন্ত বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন-নতুন বছরের শুরুতেই ঝরল রক্ত, তৃণমূলের দাপুটে নেতা খুনের নেপথ্যে কি পরিচিতরাই?
বৃহস্পতিবার সকালে মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় ভাগীরথপুরা এলাকায় পৌঁছলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলারা। মৃত সাতজনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকার চেক দেওয়ার কথা থাকলেও, অনেকেই তা নিতে অস্বীকার করেন। বিজয়বর্গীয় এলাকায় পৌঁছলে মহিলারা ক্ষোভ উগরে দেন। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি জিতু পাটওয়ারি সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। ভিডিওতে এক মহিলা বলতে শোনা যায়, গত দু’বছর ধরে নোংরা জল আসছে, বারবার বিজেপি কাউন্সিলরকে জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। জিতু পাটওয়ারি এক্স-এ লেখেন, গোটা এলাকা অসুস্থ, অথচ ক্ষমতার অহংকারে মত্ত মন্ত্রী মানুষের কথা শোনেননি।
অন্যদিকে, ভাগীরথপুরার বাসিন্দা নিধি যাদব হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন। কোলে শিশুকে নিয়ে তিনি জানান, তাঁর ৭০ বছরের শাশুড়ি রামলালি যাদব গত সাত দিন ধরে কিডনি বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার নামে টাকা চাইছে। নিধির প্রশ্ন, যদি তাঁর শাশুড়ির অবস্থা আরও খারাপ হয়, তার দায় কে নেবে? তিনি আরও জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেও তাঁদের বাধা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১,৭১৪টি বাড়িতে সমীক্ষা চালিয়ে ৮,৫৭১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলেই ৩৩৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত মোট ২৭২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২০১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ৩২ জন আইসিইউ-তে রয়েছেন।
আরও পড়ুন-রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বড় পদে 'বিদায়ী' মনোজ পন্থও
আরও পড়ুন- পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা থেকে আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা, ফিরে দেখা ২০২৫-এর দেশ-বিদেশের শীর্ষ সংবাদ
ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার ইন্দোরে পৌঁছান রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সঞ্জয় দুবে। তিনি দূষিত জল প্রবেশের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন এবং কোথা থেকে জল সরবরাহ হচ্ছে তা খতিয়ে দেখেন। এরপর পুরসভা ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে গোটা শহরে জলের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে রিপোর্ট দেবেন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করা হবে বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, ইন্দোরের সাংসদ শঙ্কর লালওয়ানি ভাগীরথপুরা পরিদর্শনে এসে জানান, স্থানীয়দের দাবির ভিত্তিতে এমপি ফান্ড থেকে ১০টি নতুন বোরওয়েল খননের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই মেশিন আনা হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us