RG Kar Case: অবশেষে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নামলেন বুদ্ধিজীবীরা। আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এবার শহর কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিলে সামিল শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিবান ও সমাজের অন্যান্য জগতের বিশিষ্টরা। শ্যামবাজার থেকে আরজি কর হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলে অপর্ণা সেন, মীরাতুন নাহার, সুজাত ভদ্র, পল্লব কীর্তনিয়ারা।
আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনে আজই CBI তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামিকাল সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই CBI-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে হবে কলকাতা পুলিশকে। সেই সঙ্গে আরজি করের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কলকাতা পুলিশের ভূমিকার কঠিন সমালোচনা শোনা গিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের মুখে।
এদিকে, আরজি কর কাণ্ডে এতদিন রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা কেন পথে নামেননি তা নিয়ে আন্দোলনকারীদের একাংশ সরব হয়েছিলেন। তবে এবার প্রতিবাদে পথে নামতে দেখা গেল অপর্ণা সেন, মীরাতুন নাহার, সুজাত ভদ্র, পল্লব কীর্তনিয়া-সহ অন্যান্য বিশিষ্টদের। শ্যামবাজার থেকে আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল বুদ্ধিজীবীদের একাংশের।
এদিন আরজি করে পৌঁছে চলচ্চিত্র শিল্পী অপর্ণা সেন বলেন, "কলকাতার নাগরিক হিসেবে এখানে এসেছি। আরজি কর হাসপাতালে যে নৃশংস ঘটনা ঘটেছে তার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। ছাত্রদের দাবির সঙ্গে আমি একমত। আন্দোলনকারীদের সম্পূর্ণ সমর্থন জানাতে আমি এখানে এসেছি। কলকাতার নাগরিক হিসেবে আমি লজ্জিত। রাজ্য সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সমস্ত ব্যবস্থা নিক যাতে সব মেয়েরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারে। আরজি করে পর্যাপ্ত পরিমাণে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই কেন? সরকারকে দায় নিতে হবে। সরকারি হাসপাতালে কর্মরতদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে রাজ্যকে।"
আরও পড়ুন- আরজি করে চিকিৎসক খুন, আর দেরি না করে CBI তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের!
আরজি করের ঘটনায় পুলিশকে দুষে অপর্ণা সেন আরও বলেন, "হাসপাতালে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ঢোকা বন্ধ করা হোক। মেয়েটির মৃত্যুর পর কেন পুলিশ প্রথমে এটাকে আত্মহত্যার ঘটনা বলল? তখনই কার নির্দেশে মৃতার পরিবারকে জানানো হলো যে সে আত্মহত্যা করেছে? কেন পুলিশ তখনই তড়িঘড়ি এত ব্যস্ত হয়ে গেল পোস্টমর্টেম করার জন্য? যে হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটেছে সেখানেই কেন পোস্টমর্টেম করতে বলা হল? এই সব প্রশ্ন আমাদের সকলের মনে উঠেছে। এসব প্রশ্নের জবাব আমরা চাই। পুলিশের ভূমিকার তদন্ত হোক। খুব শরীর খারাপ নিয়ে এসেছি। আমার মনে হয়েছে এখানে আসাটা দরকার। ছাত্র-ছাত্রীদের বলছি আমার কন্ঠ তোমাদের কন্ঠের সঙ্গে মেলালাম।"
আরও পড়ুন- ন্যাশনাল মেডিক্যাল পড়ুয়া বিক্ষোভে মন্ত্রী-বিধায়ক, 'গো-ব্যাক' শুনে ফিরলেন জাভেদ-স্বর্ণকমল
সঙ্গীতশিল্পী পল্লব কীর্তনিয়া এদিন বলেন, "যে তথ্য ও খবর মিডিয়ায় আসছে, তা দেখে মনে হচ্ছে কাউকে আড়ালের চেষ্টা হচ্ছে। কিছু একটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এক্ষেত্রে CBI তদন্তেও কিছু হবে বলে মনে করছি না। আগের বেশ কিছু তদন্তের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করছে। বিচার বিভাগীয় তদন্তটা সঙ্গত। CBI তদন্তে ভরসা রাখছি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।"
এদিকে আরজি করের ঘটনায় নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকারও কঠিন সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদ মীরাতুন নাহার। তাঁর কথায়, "সবটাই প্রহসন তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে নাটক বললে নাটককেও অসম্মান করা হয়। উনি নিজেই বলছেন তদন্ত চাই। এর থেকে বড় প্রহসন আর হয় না। জনগণের মাধ্যমেই প্রতিরোধ-গর্জন উঠে আসুক। এই মহিলাকে আমরা আর গদিতে দেখতে চাই না। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা অনিশ্চিত করে তুলেছেন উনি।"
অন্যদিকে, আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যুর এতদিন পর কেন বুদ্ধিজীবীরা পথে নামলেন, সেই প্রশ্ন তুলে এদিন অপর্ণা সেন, মীরাতুন নাহারদের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। আরজি কর হসাপতালে বিক্ষোভরত অনেকেই এদিন বুদ্ধিজীবীদের দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন। যদিও শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের মাঝে গিয়ে বসেন অপর্ণা সেন, মীরাতুন নাহাররা। প্রতিবাদ মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে তাঁদের।