/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/international-mens-day-2025-2025-11-19-12-01-01.jpg)
কোন অন্যায় মুখ বুঝে সহ্য নয়,পুরুষ দিবসে সকল পুরুষরা জানুন তাদের স্বীকৃত অধিকার
International Men's Day 2025: ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। নারীর অধিকার নিয়ে সচেতনতা যেমন বাড়ছে, তেমনি সমাজে পুরুষদের ওপর থাকা প্রত্যাশা, চাপ এবং নীরব লড়াই নিয়েও প্রশ্ন তুলছে এই দিনটি। পরিবার, সমাজ বা কর্মক্ষেত্র প্রতিটি ক্ষেত্রেই দায়িত্বের ভার সামলাতে হলেও, নিজেদের অধিকারের কথা তুললেই বহু পুরুষের কণ্ঠস্বর যেন চাপা পড়ে যায়। তাই প্রশ্ন উঠছে পুরুষরা নিজের অধিকার সম্পর্কে কতটা সচেতন? এবং এই দিনটি কি তাদের সেই নীরবতা ভাঙার সুযোগ করে দেবে?
ভারতে ২০০৭ সাল থেকে পুরুষ দিবস পালিত হলেও এটি এখনও রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি পায়নি। তবুও দিনটির তাৎপর্য কম নয়, কারণ পুরুষের স্বাস্থ্য, মানসিক চাপ, সামাজিক দায়িত্বসহ নানা বিষয় এখনও খোলাখুলিভাবে তুলে ধরা হয় না। দিনটির উদ্দেশ্য মূলত পুরুষদের অবদানকে সম্মান জানানো, তাদের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রকৃত অর্থে লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠার পথে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
সমাজ এখনও পুরুষদের এমন এক ধারণার মধ্যে বেঁধে রেখেছে যেখানে সবসময় শক্তিশালী ও নিশ্চুপ থাকার আশা করা হয়। চোখের জলকে দুর্বলতা, ক্লান্তিকে অযোগ্যতা এবং অভিযোগকে অযাচিত বলে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস এই প্রচলিত ধারণা ভেঙে পুরুষদের বাস্তব সমস্যাগুলি আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।
পুরুষদের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতাকে কেন্দ্র করেই মূলত পুরুষ দিবসের সূচনা। পরিসংখ্যান বলছে, ক্যান্সার, হৃদরোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগলেও বহু পুরুষ তা প্রকাশ করতে চান না। এর ফলে চিকিৎসায় বিলম্ব হয় এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। দিবসটি পুরুষদেরও আবেগ, চাপ ও ক্লান্তি প্রকাশের অধিকার রয়েছে—এই বার্তা স্পষ্টভাবে সামনে আনে।
আরও পড়ুন-Local Train Cancelled: শিয়ালদহ শাখায় ফের বাতিল একাধিক লোকাল ট্রেন, দুর্ভোগ এড়াতে বিশদে জানুন
আইনগত দিক থেকে দেখলে, ভারতীয় সংবিধান পুরুষদেরও নারী ও শিশুদের মতোই সমান অধিকার দেয়। জীবন, স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার তার মধ্যে অন্যতম। অনেকেই জানেন না, পুরুষরাও পারিবারিক হিংসা ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ জানাতে পারেন। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, আর্থিকভাবে দুর্বল স্বামী আর্থিক ভাবে স্বচ্ছ্বল স্ত্রীর কাছ থেকে ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। সন্তান লালন-পালনে বাবারও সমান অধিকার রয়েছে।
পুরুষরা বৈবাহিক সম্পত্তিতে অংশ দাবি করতে পারেন, মিথ্যা যৌতুক বা যৌন হয়রানির অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। বিভিন্ন মামলায় আদালত পুরুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। মিথ্যা যৌন হয়রানি বা যৌতুকের অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার অধিকার রয়েছে পুরুষদের।
সংবিধানের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে লিঙ্গের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ হল আইন পুরুষ এবং মহিলা উভয়কেই সমান সুরক্ষা প্রদান করে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪০৬ ধারার মতো অনেক আইন সম্পূর্ণরূপে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং সকলের জন্য প্রযোজ্য।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us