/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/ipac-rs-13-5-crore-loan-nonexistent-rohtak-firm-controversy-2026-01-22-09-34-10.jpg)
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে I-PAC নিয়ে প্রকাশ্যে 'চাঞ্চল্যকর' তথ্য
IPAC Controversy: রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (I-PAC) নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২১ সালে রোহতক-ভিত্তিক একটি সংস্থার কাছ থেকে আই-প্যাক যে ১৩.৫০ কোটি টাকার ‘আনসিকিউর্ড লোন’ পাওয়ার দাবি করেছে, সেই সংস্থাটির কোনও অস্তিত্বই সরকারি নথিতে নেই।
আরও পড়ুন- মন্ত্রীর রোষানলে সিপিএম, সভা চলাকালীন মাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে তোলপাড়
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি কলকাতায় আই-প্যাকের ডিরেক্টরের বাড়িতে ইডি তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ ঘিরে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ঝড়ের মুখে। তার মধ্যেই আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত এই তথ্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।
রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ (ROC)-এর নথি খতিয়ে দেখে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ২০২১ সালের ১৭ ডিসেম্বরের একটি নথিতে আই-প্যাক ‘Ramasetu Infrastructure India (P) Limited’ নামের একটি সংস্থার কাছ থেকে ১৩.৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা ঘোষণা করে। ওই নথিতে ঋণদাতা সংস্থার ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয় রোহতকের অশোকা প্লাজার তৃতীয় তলা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ঠিকানায় এমন কোনও সংস্থা কখনও কাজই করেনি।
আরও পড়ুন- SIR আতঙ্কে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, কমিশনের বিরুদ্ধেই এবার বিরাট অ্যাকশনে ছেলে
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ROC-এর নথিতে ‘Ramasetu Infrastructure India (P) Limited’ নামে কোনও সংস্থার রেজিস্ট্রেশনের কোন তথ্য নেই। বরং একই ঠিকানায় ২০১৩ সালে ‘Ramsetu Infrastructure India Private Limited’ নামে একটি সংস্থা ছিল। তবে সেই সংস্থাটি ২০১৮ সালের ৮ আগস্টেই ROC কর্তৃক বাতিল বা ‘স্ট্রাইক অফ’ হয়ে যায়, অর্থাৎ আই-প্যাকের ঘোষিত ঋণ লেনদেনের তিন বছর আগেই সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়।
এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুনের আরেকটি ঘোষণায় আই-প্যাক জানায়, তারা ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ওই ১৩.৫০ কোটি টাকার ঋণের মধ্যে ১ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে এবং এখনও ১২.৫০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের সঙ্গে ইমেল ও ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি। সংস্থার ফারিদাবাদ-ভিত্তিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পুনম চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি তরুণ কালরাও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।
ROC নথি অনুযায়ী, ‘Ramsetu Infrastructure India Private Limited’ কোম্পানিটি কোম্পানিজ অ্যাক্ট ২০১৩-এর ধারা ২৪৮(১)-এর অধীনে বাতিল হয়, যা ব্যবসা শুরু না করা বা দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
এই সংস্থাটির শেয়ারহোল্ডার ছিলেন ছ’জন বিক্রম মুঞ্জাল, সন্দীপ রানা, বিজেন্দর, বলজিৎ জাংরা, প্রদীপ কুমার এবং জগবীর সিং। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, সংস্থাটি কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় এবং আই-প্যাককে কোনও ঋণ দেওয়ার বিষয় সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না।
আরও পড়ুন- শীতের ছন্দপতন! সরস্বতী পুজোর সকালে কপালে ঘাম জমবে? জানুন লেটেস্ট ওয়েদার আপডেট
শেয়ারহোল্ডার সন্দীপ রানা জানান, “সংস্থাটি চালুই হয়নি, দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এমন কোনও লেনদেনের কথা আমি জানি না।” অন্যদিকে বিক্রমও স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা কোম্পানিটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আই-প্যাকের সঙ্গে কোনও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে আমার কোনও ধারণা নেই।”
এছাড়াও, একই নামের আরও আটটি সংস্থার ROC নথি খতিয়ে দেখেও কোথাও ১৩.৫০ কোটি টাকার কোনও লেনদেনের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
ROC তথ্য অনুযায়ী, আই-প্যাক ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল পাটনায় রেজিস্টার্ড হয় এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের রেজিস্টার্ড অফিস কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়। সংস্থার ডিরেক্টর ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে প্রতীক জৈন, ঋষিরাজ সিং এবং বিনেশ চন্দেলের নাম শুরু থেকেই অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই সব তথ্য সামনে আসার পর আই-প্যাকের আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us