/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/09/iran-anti-khamenei-protests-arrests-2026-2026-01-09-12-31-20.jpg)
ইরান জুড়ে খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
ইরান জুড়ে খামেনি-বিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন শহরে ‘খামেনির মৃত্যু’ স্লোগান তুলে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। গত দুই সপ্তাহে এই আন্দোলন সবচেয়ে হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে, দমন-পীড়ন আরও বাড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ইরানের একাধিক প্রদেশে ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়। রাজধানী তেহরান-সহ একাধিক বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্র ও মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই ৩১টি প্রদেশের ১১১টিরও বেশি শহরে ছড়িয়েছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি, ২,২০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর, যখন ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মূল্য রেকর্ড সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর অসন্তোষ দ্রুত রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং রিয়ালের পতন। তবে ধীরে ধীরে এই ক্ষোভ সরাসরি সরকার ও ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পরিণত হয়।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একাধিক জায়গায় সংঘর্ষের খবর মিলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, এটি দমনের একটি নয়া কৌশল।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর প্রথমবারের মতো নীরবতা ভাঙে খামেনি সরকার। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে হিংসার ঘটনা এবং হতাহতের কথা স্বীকার করা হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরমহলে ধারণা, পরিস্থিতি আর গোপন রাখা সম্ভব নয়।
শুরুতেই অঘটন, গঙ্গাসাগর মেলায় ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড, পুড়ে ছাই একাধিক অস্থায়ী তাঁবু
অর্থনৈতিক সঙ্কট এই বিক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরানি মুদ্রা রিয়াল সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে প্রায় ১.৪৫ মিলিয়ন রিয়াল প্রতি মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। বছরের শুরু থেকে রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে রেকর্ড উচ্চতায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেনারেশন জেড’-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ জমেছে, যা এখন রাজনৈতিক বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে।
আরও পড়ুন- ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের টার্গেট মেক্সিকো? ভারতের উপর ৫০০% শুল্ক আরোপ আমেরিকার?
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us