হিংসার আগুনে জ্বলছে ইরান, তুমুল বিক্ষোভে স্তব্ধ জনজীবন, দেশজুড়ে বাড়ছে সংঘর্ষ-মৃত্যুর ঘটনা

ইরানে রাজনৈতিক সঙ্কট দিনে দিনে আরও গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিয়েছে, যার জেরে গত দু সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ইরানে রাজনৈতিক সঙ্কট দিনে দিনে আরও গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিয়েছে, যার জেরে গত দু সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
iran political crisis, iran protests 2025, violent unrest in iran, anti government protests iran, internet shutdown iran, iran inflation protest, iran rial collapse, tehran violence clashes, iran security forces protest, iran religious leadership protest, deaths in iran protests, iran nationwide unrest, tehran hospitals protest deaths, middle east political instability

হিংসার আগুনে জ্বলছে ইরান

ইরানে রাজনৈতিক সঙ্কট দিনে দিনে আরও গভীর হচ্ছে। দেশজুড়ে ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার নিয়েছে, যার জেরে গত দু সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মোকাবিলায় সরকার সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

Advertisment

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে বড়সড় কিছু ঘটানোর প্ল্যান ছিল? পাকিস্তান থেকে পাঠানো পিস্তল-গ্রেনেড উদ্ধার!

প্রথমে ইরানে এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ইরানি রিয়ালের দ্রুত পতনের প্রতিবাদে। তবে ধীরে ধীরে তা সরকার ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। এখন এই বিক্ষোভ আর শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, শুধু রাজধানীর ৬ হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জন  বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই  গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

তেহরানের পাশাপাশি একাধিক শহরে বিক্ষোভ চলছে। বহু জায়গায় রাস্তায় আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাংচুরও চালানো হয়েছে বলেই খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ দিনের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২,০০০-এরও বেশি মানুষ। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫ লক্ষের বেশি মানুষ। সারা দেশে প্রায় ৪০০টি স্থানে আন্দোলন চলছে। শুধু তেহরানেই সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। পুলিশ অন্তত ২,৩০০ জনকে আটক করেছে।

West Bengal news live Updates: মমতাকে আইনি নোটিস শুভেন্দুর! ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটামে তোলপাড় রাজনীতি

বিদ্রোহের আগুন ইরানের ২০টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ১১০টিরও বেশি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তেহরানে অন্তত ২৬টি ব্যাংক লুট করা হয়েছে, ২৫টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং ১০টি সরকারি ভবন সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট, ৪৮টি দমকলের গাড়ি ও ৪২টি বাসে আগুন লাগানো হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে তেহরানের মেয়র আলীরেজা জাকানি জানান, রাজধানীতে হওয়া দাঙ্গায় শহরের জনজীবন ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, “একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুটি চিকিৎসা কেন্দ্র ও ২৬টি ব্যাংক লুট হয়েছে, ২৫টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বাসিজের একাধিক পোস্টে হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, জরুরি পরিষেবাগুলি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

Lingtam: মনের শান্তি খুঁজছেন? ছবির মতো সাজানো লিংটাম গ্রামে প্রকৃতির কোলে রিসেট করুন জীবন!

জানা গেছে, এই বিক্ষোভের সূচনা হয় ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর, যখন ইরানি রিয়ালের তীব্র পতনের প্রতিবাদে তেহরানের মধ্যাঞ্চলে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভরত ব্যবসায়ীরা অন্যান্য দোকানদারদের দোকান বন্ধ করে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। পরদিন, ৩০ ডিসেম্বর তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও এই আন্দোলনে সামিল হন। ২ জানুয়ারি মেহর নিউজ জানায়, ইলাম প্রদেশের রাস্তায় মুখোশধারী সশস্ত্র অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দেখা গেছে। এরপর থেকেই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ আরও তীব্র আকার নিয়েছে।

West Bengal Weather: হাড় কাঁপানো ঠান্ডা বাংলাজুড়ে, শীতের ঝোড়ো ইনিংস আর কতদিন চলবে?

Iran