/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/02/iran-violent-protests-currency-crisis-january-2026-2026-01-02-12-37-56.jpg)
তুমুল বিক্ষোভে জ্বলে পুড়ে খাক ইরান
Iran Protest: ইরানে টানা পাঁচ দিনের অস্থিরতার জন্য পশ্চিমী শক্তি ও বিরোধী গোষ্ঠীগুলিকেই দায়ী করেছে আয়াতোল্লা আলি খামেনির সরকার। খামেনির সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, বিক্ষোভের আড়ালে ইসলামী শাসনব্যবস্থা উৎখাতের ষড়যন্ত্র চলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থা কিছু প্রমাণও পেশ করেছে, যেখানে সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র পাচার এবং বিদেশি মদতপুষ্ট বিদ্রোহী এজেন্টদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনির সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই সাতজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ইরানের দাবি, অভিযুক্তরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের নির্দেশে কাজ করছিল। সরকারের স্পষ্ট বার্তা, কোনও মূল্যে এই বিক্ষোভ সফল হতে দেওয়া হবে না।
ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে অন্তত ১০০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই সমস্ত অস্ত্রই সীমান্তের ওপার থেকে ইরানে পাচার করা হয়েছে। কারা এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই অস্ত্র পাঠানো ছিল সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা, যার পেছনে পশ্চিমী শক্তির মদত রয়েছে।
ইরানে বিক্ষোভের সূত্রপাত মূলত অর্থনৈতিক সংকট থেকে। জল সংকট, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে প্রথমে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নামেন। পরে ছাত্রছাত্রী ও মহিলারাও এই আন্দোলনে যোগ দেন। সরকার স্বীকার করেছে, প্রথমে ইস্যু-ভিত্তিক প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা বড় আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
রবিবার তেহরানের বাজার এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের তীব্র পতনের ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ দোকানদাররা দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদে নামেন। রিয়ালের অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যার জেরে মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নতুন বছরের শুরুতেই ঝরল রক্ত, তৃণমূলের দাপুটে নেতা খুনের নেপথ্যে কি পরিচিতরাই?
এই বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরেও ছড়িয়ে পড়ে। পড়ুয়ারা বেকারত্ব, জল সংকট এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইরান সরকার আশঙ্কা করছে, এই অস্থিরতা অভ্যুত্থানের দিকে গড়াতে পারে। ১৯৫৩ সালে সিআইএ-সমর্থিত অভ্যুত্থানের স্মৃতি এখনও তেহরানের শাসক মহলে গভীর উদ্বেগের কারণ।
এএফপি জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ হঠাৎ সরকারি ছুটি ঘোষণা করে ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২১টিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একাধিক শহরে সংঘর্ষের ছবি। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসক নিপাত যাক’ এবং ‘খামেনি নিপাত যাক’ স্লোগান দিচ্ছেন।ইরানের ব্যবসায়ী মহল জানিয়েছে, তারা ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে বাধ্য হয়েছেন, কারণ এতে তাদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন- শীত হোক বা উইকেন্ড, কলকাতার কাছে 'সেরার সেরা' এই ৫ পিকনিক স্পট মিস করবেন না
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণের ক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, মানুষের দাবি ন্যায্য এবং সরকার তা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়াল প্রায় অর্ধেক মূল্য হারিয়েছে, যার ফলেই মুদ্রাস্ফীতি ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটই সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মূল কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us