/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/29/1000211675-2025-08-29-18-09-28.jpg)
IT raid : কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে চলে এই অভিযান।
মালদার গাজোলের বিজয়নগর স্টার্চ ফ্যাক্টরিতে আচমকায় আয়কর দপ্তরের অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়ালো। পাশাপাশি একইসঙ্গে জিএসটি বিভাগের আধিকারিকেরাও এই বেবী ফুড উপাদান প্রস্তুতকারী ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালায়। শুক্রবার সাতসকালে গাজোল থানার পান্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলঘর এলাকার জাতীয় সড়কের পাশে থাকা এই বেবি ফুড উপাদান প্রস্তুতকারু ফ্যাক্টরিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযানে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।
মুহূর্তের মধ্যে ওই বেবি ফুড উপাদান প্রস্তুতকারক ফ্যাক্টরির সমস্ত কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৪০০ শ্রমিক এদিন কাজ ছেড়ে ফ্যাক্টরি থেকে বেরিয়ে পড়েন। ওই ফ্যাক্টরির পদস্থ কর্মকর্তাদের ভেতরে আটকে রেখে তাদের মোবাইলও বাজেয়াপ্ত করে অভিযানকারী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারেরা। পাশাপাশি ওই ফ্যাক্টরির গোটা চত্বর দখল নেয় আধা সামরিক বাহিনীর কর্মীরা। এদিন সকাল আটটা থেকে এই অভিযানের সময় বিজয়নগর স্টার্চ ফ্যাক্টরির মেনগেট তালা বন্দি করে দেওয়া হয়।
সমস্ত শ্রমিক কর্মচারীদের সেখান থেকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। সন্ধ্যার পর রাত গড়িয়ে গেলেও সেখানে আয়কর দপ্তর এবং জিএসটি বিভাগের আধিকারিকেরা তদারকি চালিয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। ওই ফ্যাক্টরির বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতি রয়েছে বলেও একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে। যার কারণে কেন্দ্রের এই দুই তদন্তকারী সংস্থা অভিযান চালিয়েছে।
এদিকে এদিন এই ঘটনার খবর জানতে পেরে গাজোল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রথমে তাদেরকেও ওই ফ্যাক্টরিতে প্রবেশে বাঁধা দেয় অভিযানকারী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। পরে অবশ্য গাজোল থানার আইসিকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
ওই ফ্যাক্টরি লোডিং সুপারভাইজার সোমনাথ সরকার জানিয়েছেন, গত দশ বছর ধরে গাজোলের গোলঘর এলাকার ১৩ নম্বর জাতীয় সড়কের এক পাশেই বিজয়নগর স্টার্চ নামক এই ফ্যাক্টরিটি বেবি ফুড উপাদান প্রস্তুত করে চলেছে। এখানে প্রায় ৪০০ শ্রমিক কাজ করে। এদিন সকাল আটটা নাগাদ যখন ফ্যাক্টরিতে বিভিন্ন সামগ্রী লোডিং এবং আন লোডিং-এর কাজ শুরু হয়, তখনই ওই অফিসারেরা ফোর্স নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
এরপরে তাঁদের বাইরে চলে যেতে বলে। ওই ফ্যাক্টরির কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের ভেতরে বসিয়ে রেখে মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়। আয়কর দপ্তর এবং জিএসটি বিভাগের অফিসারদের অভিযানের ফলে এদিন ফ্যাক্টরিতে কোনও কাজ হয় নি । সন্ধ্যায় গড়িয়ে রাত পর্যন্ত ফ্যাক্টরির তদারকির কাজ চালিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তকারী অফিসারেরা।
যদিও এদিনের এই অভিযান প্রসঙ্গে পুলিশ ও প্রশাসন এবং আয়কর দপ্তরের কর্তাদের সঙ্গেও কোনরকমভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।