/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/28/jagannath-dham-digha-2025-12-28-14-26-18.jpg)
এক কোটি পার! আধ্যাত্মিক পর্যটনের ইতিহাসে নজির গড়ল দীঘা
Digha jagannath dham: ভারতের আধ্যাত্মিক পর্যটনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল জগন্নাথ ধাম, দিঘা। আজ (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে মন্দিরে উপস্থিত হলেন এক কোটিতম দর্শনার্থী। ৩০ এপ্রিল ২০২৫-এ উদ্বোধনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন জগন্নাথদেবের আধ্যাত্মিক আকর্ষণকে যেমন প্রমাণ করেছে, তেমনই দিঘাকে আন্তর্জাতিক মানের তীর্থক্ষেত্র হিসেবে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর লাগাতার নির্যাতনে কেন চুপ প্রধানমন্ত্রী মোদী? অভিষেকের নিশানায় বিজেপি
জগন্নাথ ধাম, দিঘা সংক্ষেপে দেশের অন্যতম প্রাণবন্ত ভক্তিকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তো বটেই, ভারতের সীমানা পেরিয়েও অসংখ্য ভক্ত এখানে এসে ভক্তি ও কীর্তনে নিমগ্ন হচ্ছেন। বিশেষ করে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের ইসকনের ভক্তদের দিঘায় নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করছেন। ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভক্তরা জগন্নাথ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, জপ ও কীর্তনে অংশগ্রহণ করছেন।
দিঘা এখন শুধু সমুদ্রসৈকতের জন্যই নয়, বরং সারাবছর তীর্থনগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই দীঘায় পর্যটন কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন এসেছে। একসময় সিজন ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে পরিচিত দিঘা এখন সারা বছর দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে। হোটেল, লজ, রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, ফুল বিক্রেতা, কারুশিল্পী, পুরোহিত ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
আরও পড়ুন- তড়িঘড়ি হাসপাতালে ছুটলেন তারেক রহমান, মধ্যরাতেই চিকিৎসকদের প্রেস ব্রিফিং, কেমন আছেন খালেদা জিয়া?
আরও পড়ুন-Migrant worker killing: ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক খুন, তদন্তে পড়শি রাজ্যে পুলিশ পাঠালেন মমতা
এই ঐতিহাসিক উপলক্ষে জগন্নাথ ধাম, দিঘার প্রধান পুরোহিত ও ট্রাস্টি রাধারমন দাস বলেন, “এক কোটিতম ভক্তের আগমন কেবল সংখ্যাগত সাফল্য নয়; এটি জগন্নাথদেবের সর্বজনীন আলিঙ্গনের এক পবিত্র স্বীকৃতি। জগন্নাথ ধাম আজ জাতি, সংস্কৃতি ও হৃদয়ের মিলনস্থল যেখানে ভক্তি আত্মাকে উন্নত করে, সমাজকেও সমৃদ্ধ করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শী উদ্যোগেই এই মন্দির সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পটি শুধু বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে সুদৃঢ় করেনি, সাধারণ মানুষের জন্য স্থায়ী অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করেছে।”
আরও পড়ুন- জেমসের কনসার্টে মৌলবাদীদের তাণ্ডব, বানচাল হল অনুষ্ঠান, ক্ষোভে ফুঁসলেন তসলিমা
মন্দির কর্তৃপক্ষ আজ কাকলি জানা নামে এক কন্যাশিশুকে প্রতীকীভাবে এক কোটিতম দর্শনার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কাকলি জানার পরিবারকে বিশেষ দর্শন, মহাপ্রসাদ, পুষ্পমালা ও প্রসাদ প্রদান করা হয়। পরিবারটি আনন্দ ও আবেগের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। পরিবারটি জানায়, “আমরা অসীমভাবে ধন্য ও গর্বিত বোধ করছি। জগন্নাথ ধাম, দিঘার মতো ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হতে পারা আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে। এটি সত্যিই জগন্নাথদেবের কৃপা।”
জগন্নাথ ধাম, দিঘা এখন বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পুনরুত্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভারত ও বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তদের আগমন অব্যাহত থাকায় মন্দিরটি প্রমাণ করছে যে, বিশ্বাস, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সমাজোন্নয়ন একসাথে এগোলে আরও উজ্জ্বল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ভবিষ্যৎ তৈরি সম্ভব।
আরও পড়ুন-'পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে', বাংলাদেশে চলমান হিংসা নিয়ে এবার গর্জে উঠলেন দিলীপ ঘোষ
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us