/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/19/siliguri-2026-01-19-11-35-46.jpg)
Humanitarian Initiative: তরুণের এই উদ্যোগ এখন রীতিমতো চর্চায়।
রাজ্যে যখন কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে চারদিকে হাহাকার, যখন চা বাগানের শ্রমিক মহল্লাগুলোতে ডিকশনারি বা উচ্চমানের শিক্ষার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা বলে মনে হয়, ঠিক তখনই এক চিলতে রুপোলি রেখা হয়ে দেখা দিয়েছেন বছর একত্রিশের এক যুবক। পেশায় সাংবাদিক, তেরো বছর ধরে সংবাদের পেছনে ছোটা সৌরভ রায় এখন সংবাদ হওয়ার মতোই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিলিগুড়ি মহকুমার চা বাগানগুলোতে। শিলিগুড়ির ঘিঞ্জি যানজট পেরিয়ে যেখানে মুক্ত বাতাসের শুরু, সেই বাগিচা শ্রমিকদের সন্তানদের হাতে তিনি তুলে দিচ্ছেন ‘অক্সফোর্ড ডিকশনারি’। লক্ষ্য একটাই, ভাষার বাধা কাটিয়ে চা বাগানের প্রান্তিক পড়ুয়ারাও যেন ডিজিটাল যুগে বিশ্বমানের শিক্ষার নাগাল পায়।
কোচবিহারের দিনহাটার ভূমিপুত্র সৌরভ বর্তমানে শিলিগুড়িতে কর্মরত একটি দৈনিক সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালে। প্রায় ছয় বছর ধরে ফাঁসিদেওয়া এলাকার আনাচে-কানাচে কাজের সূত্রে তাঁর যাতায়াত। সেখানেই তিনি উপলব্ধি করেন, চা বলয়ের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার পড়ুয়ারা নিজস্ব ভাষা বা হিন্দিতে সাবলীল হলেও আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতে পিছিয়ে রয়েছে। আর সেই ঘাটতি পূরণ করতেই গত কয়েক বছর ধরে নিজের জন্মদিনে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ উৎসব বা কেক কাটার আয়োজন না করে, জমানো টাকা দিয়ে কেনা দামী ইংরেজি ডিকশনারি এবং শিক্ষা সামগ্রী নিয়ে হাজির হন বাগানে বাগানে।
সৌরভের মতে, ‘যে এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়াটাই ভাগ্যের ব্যাপার, সেখানে অনলাইন ডিকশনারি বা গুগলের সাহায্য নেওয়া তো বিলাসিতা! তাই ভালো মানের একটি ইংরেজি অভিধান বা ডিকশনারি হাতে থাকাটা জরুরি। পাঠ্যবই তো ক্লাসের সঙ্গে বদলে যায়, কিন্তু একটি ডিকশনারি একটি পরিবারে বা পাড়ায় বছরের পর বছর বহু পড়ুয়ার কাজে লাগতে পারে।’ তাঁর এই দূরদর্শী ভাবনায় সমৃদ্ধ হচ্ছে হাঁসখোয়া, কমলা, ভোজনারায়ণ, মতিধর ও বিজলিমুনির মতো একাধিক চা বাগান।
সম্প্রতি কমলা চা বাগানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রিনা এক্কার উপস্থিতিতে পড়ুয়াদের হাতে ডিকশনারি তুলে দেন সৌরভ। রিনা দেবী বলেন, “প্রতি বছর সৌরভ নিজের জন্মদিনে কেক না কেটে ডিকশনারি নিয়ে বাগানে হাজির হন। তাঁর এই উদ্যোগ সত্যিই শিক্ষানুরাগী ও মানবিক।” একইভাবে মতিধর ও বিজলিমুনি চা বাগানে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সাহিদ হোসেনের উপস্থিতিতে আদিবাসী পড়ুয়ারা উপহার হিসেবে পায় দামী ইংরেজি অভিধান। হাঁসখোয়া চা বাগানের রাজকুমার কাশ্যপ থেকে শুরু করে নবম শ্রেণির পড়ুয়া স্মিতা টিগ্গা, মানসি চিক ওঁরাওরা অত্যন্ত খুশি।
আরও পড়ুন-লাইন দেওয়ার দিন শেষ! SIR-এ ই-শুনানির নতুন দুয়ার খুলল নির্বাচন কমিশন
তারা মজার ছলে জানায়, “দাদার বাংলা মেশানো হিন্দি বুঝতে কিছুটা কষ্ট হয় ঠিকই, কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দাদার ভাবনাটা যে কতটা বড়, সেটা বুঝতে বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না।” সৌরভ রায়ের এই ব্যক্তিগত প্রয়াস বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, বড় পরিবর্তন আনতে সবসময় বড় ফান্ডের প্রয়োজন হয় না। সদিচ্ছা আর সামান্য জমানো অর্থই পারে কোনো এক চা শ্রমিকের সন্তানের অন্ধকার ঘরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us