কোটি কোটি টাকার মাদক চক্র ভাঙতে মরিয়া গ্রামবাসীরা, পুলিশের আশ্বাস পেতেই অ্যাকশনে সাধারণ মানুষ

কালিয়াচক থানার মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রীতিমতো সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন গ্রামবাসীরা।

কালিয়াচক থানার মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রীতিমতো সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন গ্রামবাসীরা।

author-image
Madhumita Dey
New Update
Kaliachak, Malda, anti-drug movement, drug trafficking, brown sugar, heroin, drug racket, Salim Chowdhury arrest, Malda district police, villagers protest, Mojampur gram panchayat, Narayanpur, Kismatpur, Imamjagir, police crackdown, narcotics seizure, community action against drugs

মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রীতিমতো সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন গ্রামবাসীরা

কালিয়াচক থানার মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রীতিমতো সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামে কোনও মাদক কারবারিকে দেখলেই পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে এমনই কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নারায়ণপুর, কিসমতপুর ও ইমামজাগির এলাকার শতাধিক বাসিন্দা। ব্রাউন সুগার ও হেরোইনের মতো মাদক কোথাও তৈরি বা মজুত হলে তার বিরুদ্ধে পুলিশি সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisment

মাদুরোর মত পুতিনের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাবেন ট্রাম্প? প্রশ্নে নাটকীয় উত্তর মার্কিন প্রেসিডেন্টের, বাড়ল জল্পনা

জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের পরই গ্রামবাসীদের মধ্যে এই সচেতনতা আরও জোরদার হয়েছে। গত কয়েক দিনে দফায় দফায় সালিশি সভা ও বৈঠক করে মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এলাকাবাসী। এই সম্মিলিত উদ্যোগের ফলেই বড়সড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে নারায়ণপুর এলাকার একটি গোপন ডেরা থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির মূল চক্রী সালাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে কালিয়াচক থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সালাম চৌধুরী গা ঢাকা দিয়ে ব্রাউন সুগার ও হেরোইন তৈরির কারবার চালাচ্ছিল। মনিপুর, ঝাড়খণ্ড ও বিহারের মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই চক্র চলত। স্থানীয় কিছু বাসিন্দা গোপনে পুলিশের কাছে সালামের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

শনিবার মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ধৃত সালাম চৌধুরীর সঙ্গে একটি বড় মাদক চক্র সক্রিয় ছিল। বাইরে থেকে কাঁচামাল এনে এলাকায় ব্রাউন সুগার তৈরি করা হতো এবং এর মূল মাস্টারমাইন্ড ছিল সালাম। তিনি বলেন, গ্রামবাসীদের ঐক্যবদ্ধ মনোভাব ও মাদকবিরোধী সচেতনতার ফলেই এই গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?

পুলিশের দাবি, গত এক মাসে শুধুমাত্র কালিয়াচক থানা এলাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৬ কেজি ব্রাউন সুগার, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ কোটি টাকা। এই ঘটনায় বিহার, ঝাড়খণ্ড, মনিপুর-সহ মালদা জেলার মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সালাম চৌধুরী ব্রাউন সুগার কারবারের করিডোর হিসেবে নারায়ণপুর এলাকাকে ব্যবহার করছিল বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এলাকায় মাদকের প্রভাব বাড়তে থাকায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অল্পবয়সিরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ায় পরিবারগুলির মধ্যে অশান্তি বাড়ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়ার পরই গ্রামবাসীরা প্রকাশ্যে মাদক কারবারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। তিনটি গ্রামে মাইকিং করে সালিশি সভা ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মাদক কারবারে যুক্ত কাউকে হয় পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হবে, নতুবা সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে।

নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক ও সাদেক আলী জানান, পুলিশের সাহস জোগানোতেই তাঁরা এতদিন পর একজোট হতে পেরেছেন। গ্রামবাসীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যে বাড়ি বা ডেরায় মাদক কারবার চলবে, তাদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্রামছাড়া করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

কিসমতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবর আলী ও আনারুল মোমিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক মাফিয়াদের হুমকির মুখে থাকতে হয়েছে। তবে পুলিশের নিরাপত্তার আশ্বাসে এখন গ্রামবাসীরা সাহস পেয়েছেন এবং মাদক কারবারি দেখলেই পুলিশে খবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মোজামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর, ইমামজাগির-সহ একাধিক এলাকায় ব্রাউন সুগার ও হেরোইনের চক্র সক্রিয় ছিল। পুলিশি অভিযানে চক্র অনেকটাই ভাঙা গেলেও কিছু কারবারি কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছিল। গ্রামবাসীদের সক্রিয় সহযোগিতায় এখন সেই চক্র পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও এলাকায় এই ধরনের সচেতনতা গড়ে তুলতে পুলিশ প্রচার চালাবে বলেও জানান তিনি।

বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ 

Malda Drug Case