/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/sweets-2026-01-18-15-52-09.jpg)
2000 rupees sweet: মেলায় বিকোচ্ছে পেল্লাই সাইজের সব মিষ্টি।
Purba Bardhaman News: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘দেবদাস’ উপন্যাসের নায়ক দেবদাস মিষ্টির ভক্ত ছিলেন কি না, তা সাহিত্যে অজানা। কিন্তু তাঁকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের কালনার হাতিপোতা গ্রামে (Kalna Hatipota Village) যে মেলা বসে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘মিষ্টিমধুর’। প্রেমের বিয়োগান্তক পরিণতির এই উপন্যাসের স্মৃতিতে আয়োজিত মেলার প্রধান আকর্ষণ এখন পেল্লাই সাইজের মিষ্টি। যার এক একটার দাম ৫০০ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত! শীতের আমেজে সেই ‘জাম্বো’ মিষ্টির স্বাদ নিতেই এখন মেলা প্রাঙ্গনে উপচে পড়ছে ভিড়।
কালনা ১ ব্লকের নান্দাই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাতিপোতা গ্রাম। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই গ্রাম থেকেই কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কালজয়ী ‘দেবদাস’ উপন্যাসের রসদ খুঁজে পেয়েছিলেন। সেই বিশ্বাসকে সম্বল করেই ২৬ বছর ধরে এখানে আয়োজিত হয়ে আসছে ‘দেবদাস স্মৃতি মেলা’ (Devdas Smriti Mela)। শুক্রবার প্রদীপ জ্বালিয়ে ও শরৎচন্দ্রের ছবিতে মাল্যদান করে এই মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও যুব নেত্রী সায়নী ঘোষ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এবারের মেলার বিশেষ চমক হিসেবে অভিনেতা তথা সাংসদ দেবের আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মেলায় মিষ্টির বিশাল আকার মূল আকর্ষণ
তবে মেলার সব আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশালাকৃতির মিষ্টি (Giant Sweets)। নদিয়া থেকে আসা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী আকবর আলী শেখ জানালেন, ছানার সঙ্গে ময়দা ও বিশেষ উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে এই ‘নোড়া পান্তুয়া’। আকারের ওপর ভিত্তি করে দাম ৫০০, ১০০০ এবং ২০০০ টাকা। আরেক ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ মোদকের কথায়, "২ হাজার টাকা দামের একটি মিষ্টি তৈরি করতে প্রায় ৪ কেজি ছানা লাগে। রসে ডোবানোর পর সেই একটি মিষ্টির ওজনই দাঁড়ায় প্রায় ৭ কেজিতে।" ব্যবসায়ীদের দাবি, এত বড় মাপের ও দামি মিষ্টি অন্য কোথাও সচরাচর বিক্রি হয় না, কিন্তু দেবদাস মেলার ঐতিহ্যই এই পেল্লাই মিষ্টি। অনেকেই শুধু এই মিষ্টি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন দোকানে।
আরও পড়ুন- অভিষেকের ‘গদ্দার’ মন্তব্যে 'অ্যাকশনে' হুমায়ুন কবীর, তুললেন বিরাট অভিযোগ, কেঁপে উঠল রাজ্য-রাজনীতি
মেলার নেপথ্যের ইতিহাস
মেলার নেপথ্যের ইতিহাসও বেশ আকর্ষণীয়। হাতিপোতা গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, গ্রামের একদা জমিদার ভুবনমোহন চৌধুরীই ছিলেন উপন্যাসে বর্ণিত পার্বতীর স্বামী। উপন্যাসে হাতিপোতা গ্রামের নামের উল্লেখও পাওয়া যায়। তাই এলাকাবাসীর বিশ্বাস, ১৮৯৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে শরৎচন্দ্র স্বয়ং এই গ্রামে এসেছিলেন। মেলা কমিটির পক্ষে রেজাউল মোল্লা বলেন, "উপন্যাসের শেষে শরৎচন্দ্র লিখেছিলেন, ‘তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও’। সেই আবেদনে সাড়া দিয়েই লেখকের প্রয়াণ দিবস স্মরণে এই মেলার আয়োজন (Hatipota Devdas Smriti Mela)। জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখতে আজও পর্যটকরা এখানে আসেন।"
আরও পড়ুন- মৌনী অমাবস্যাতে সঙ্গমে ভক্তদের ঢল, পবিত্র স্নানে অংশ নিয়েছেন ১ কোটির বেশি পূন্যার্থী
রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, "দেবদাস উপন্যাসের দৌলতেই আজ হাতিপোতা গ্রামের নাম মানুষের মুখে মুখে। কথাশিল্পীর উপন্যাসই এই গ্রামকে ধন্য করেছে।" সব মিলিয়ে, সাহিত্যের ইতিহাস আর রসগোল্লার ভূগোল একাকার হয়ে গিয়েছে কালনার এই গ্রামীণ মেলায়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us