/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-2026-2026-01-01-05-40-04.jpg)
বিশ্বাস ও ভক্তি যেখানে মিলেমিশে একাকার
Kalpataru Utsav 2026-Dakshineswar Temple: আজ বছরের প্রথম দিন। বছরের প্রথম দিনেই কল্পতরু উৎসব। রাত থেকেই দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। এদিন ভোর সাড়ে ৫টায় খোলা হয় দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের প্রবেশ দ্বার। আজকের এই দিনেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের অনুরাগীরা তাঁকে ঈশ্বরের অবতার বলে ঘোষণা করেছিলেন। বিশেষ এই দিনে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে অগণিত ভক্ত এসে ভিড় জমিয়েছেন দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে। কল্পতরু উৎসবের দিনে দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী সেজেছেন নয়া সাজে।
প্রতিবছর ১ জানুয়ারি দিনটি ধুমধাম করে পালিত হয় কল্পতরু উৎসব। এই দিনেই শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ভক্তদের কাছে কল্পতরু রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন বলে বিশ্বাস। কিন্তু কল্পতরু আসলে কী, তা অনেকেরই অজানা। পুরাণ মতে, কল্পতরু হল এক অলৌকিক ইচ্ছাপূরণকারী বৃক্ষ, যার কাছে প্রার্থনা করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি দক্ষিণেশ্বরের কাশীপুর উদ্যানবাটিতে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্য ও ভক্তদের প্রতি অসীম কৃপা প্রদর্শন করেন এবং সকলকে আশীর্বাদ প্রদান করেন। সেই দিন তিনি নিজেকে অবতাররূপে প্রকাশ করেছিলেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস। এই কারণেই দিনটি কল্পতরু দিবস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বছরের পর বছর এই পুণ্যতিথিতে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মরণে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে, ভক্তি ও বিশ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির চত্ত্বর।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/717176e7-02f.jpg)
কল্পতরু উৎসব শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভক্ত-শিষ্যরা পালন করেন। এর সূচনা হয়েছিল ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি। কাশীপুর উদ্যানবাটীতে মূলত এই উৎসব পালিত হয়। তবে, রামকৃষ্ণ মঠের সন্ন্যাসী, রামকৃষ্ণ মিশনের গৃহস্থ, বেদান্ত সোসাইটিগুলো সবাই এই উৎসব পালন করে। দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতেও রামকৃষ্ণ অনুগামীরা এই দিন গোটা দেশ থেকে পুজো দিতে আসেন। দিনটি পালন করা হয়, কারণ এই দিনেই শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস নিজেকে ঈশ্বরের অবতার বলে ঘোষণা করেছিলেন।এর পিছনে রয়েছে এক অলৌকিক কাহিনি। শ্রীরামকৃষ্ণ সেই সময় দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। তখন তাঁকে কাশীপুর উদ্যানবাটীতে চিকিৎসার সুবিধার জন্য আনা হয়েছিল। সেই সময় ১ জানুয়ারি একটু সুস্থ বোধ করায় তিনি শিষ্যদের নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। শিষ্যদের মধ্যে ছিলেন নাট্যকার গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
উদ্যানবাটীর এক গাছতলায় দাঁড়িয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার কী মনে হয়, আমি কে?' জবাবে গিরিশ ঘোষ বলেন, 'আমার বিশ্বাস আপনি রামকৃষ্ণ পরমহংস। মানবকল্যাণের জন্য মর্ত্যে অবতীর্ণ ঈশ্বরের অবতার।'জবাবে শ্রীরামকৃষ্ণ বলেন, 'আমি আর কী বলব? তোমাদের চৈতন্য হোক।' তারপর রামকৃষ্ণদেব সমাধিস্থ হয়ে পড়েন। আর, তাঁর প্রত্যেক শিষ্যকে স্পর্শ করেন। পরবর্তীতে রামকৃষ্ণদেবের অনুগামীরা জানিয়েছিলেন, ওই স্পর্শে তাঁদের প্রত্যেকের মধ্যে অদ্ভুত কিছু আধ্যাত্মিক অনুভূতি হয়েছিল। এই ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রামকৃষ্ণ দেবের শিষ্য রামচন্দ্র দত্ত দাবি করেছিলে, শ্রীরামকৃষ্ণ সেই দিন পুরাণে বর্ণিত কল্পতরুতে পরিণত হয়েছিলেন। রামচন্দ্র দত্ত এই দিনটির নাম দেন কল্পতরু দিবস। যা পরে কল্পতরু উৎসব নামে পরিচিত হয়।
রামচন্দ্র দত্ত এই দিনটির নাম দেন কল্পতরু দিবস। যা পরে কল্পতরু উৎসব নামে পরিচিত হয়। ওই দিন শ্রীরামকৃষ্ণের কোনও সন্ন্যাসী শিষ্য তাঁর কাছে ছিলেন না। শুধু ছিলেন গৃহী শিষ্যরাই। রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ভক্ত ও শিষ্যরা দিনটিকে ঠাকুরের বিশেষ উৎসবগুলোর একটি বলে পালন করে থাকেন।
আজ কল্পতরু উৎসবের দিনে সেজে উঠেছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরও। নতুন সাজে সাজানো হয়েছে মা ভবতারিণীকে। নতুন বেনারসি, গয়নায় সাজানো হয়েছে মাকে। এরাজ্য তো বটেই এমনকী আজকের এই বিশেষ দিনে ভিনরাজ্য থেকেও ভক্তরা পুজো দিতে এসেছেন দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে।
আরও পড়ুন-রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বড় পদে 'বিদায়ী' মনোজ পন্থও
আরও পড়ুন- শীত হোক বা উইকেন্ড, কলকাতার কাছে 'সেরার সেরা' এই ৫ পিকনিক স্পট মিস করবেন না
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us