/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/30/khaleda-zia-pic-2025-12-30-13-31-03.jpg)
Khaleda Zia death: প্রয়াত খালেদা জিয়া।
Khaleda Zia vs Sheikh Hasina: বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রয়াত। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বই বাংলাদেশের রাজনীতির প্রধান অক্ষ হয়ে উঠেছিল।
১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬, দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়ার শাসনকাল যেমন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গভীর ছাপ ফেলেছে, তেমনই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেও তৈরি করেছে টানাপোড়েন। তাঁর প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে তিনি ভারতের তিন প্রধানমন্ত্রী, পি ভি নরসিমা রাও, অটলবিহারী বাজপেয়ী ও মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করেছেন।
বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদটি ভারতের কাছে ছিল তিক্ত অভিজ্ঞতার। ওই সময় ডানপন্থী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতবিরোধী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ বেড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলেই দিল্লির সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পর ভারতবিরোধী কার্যকলাপে কড়াকড়ি শুরু হয়।
১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া প্রথমে বাংলাদেশের ‘ফার্স্ট লেডি’ হিসেবে পরিচিত হন। ১৯৮১ সালে স্বামী নিহত হওয়ার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৮৪ সালে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি প্রথমবার রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তোলেন।
আরও পড়ুন-Khaleda Zia death: প্রয়াত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, বড় সিদ্ধান্ত BNP-এর
১৯৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে সামরিক শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীকালে তাঁদের দ্বন্দ্ব ‘ব্যাটল অব দ্য বেগমস’ নামে পরিচিত হয়।
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে রূপান্তর ঘটান। ভ্যাট চালু, গ্রামীণ মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে মাধ্যমিক শিক্ষা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, এই সময়ের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে ২০০১-০৬ মেয়াদে তাঁর পুত্র তারেক রহমানের ‘হাওয়া ভবন’ থেকে সরকার পরিচালনার অভিযোগও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংস ও ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। ২০১৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা রুখতে তাঁর সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন না হওয়ায় ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বড় ভুল বলে মনে করেন বহু বিশ্লেষক। এরপর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপি কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন- Khaleda Zia Net Worth: মাসিক আয়ই ছিল কোটি টাকা, খালেদা জিয়ার মোট সম্পত্তির পরিমাণ জানলে চমকে উঠবেন
২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তাঁকে কারাবন্দি করা হয় এবং পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় জেলে রাখা হয়। অসুস্থতার কারণে পরে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন তিনি।
২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর কিছুদিন আগে, ২৫ ডিসেম্বর, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমান দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরেন।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে মতভেদ থাকলেও, তাঁর দল বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জীবনের শেষ পর্যায়ে বলা তাঁর কথাগুলি, “শেষ পর্যন্ত জনগণই ঠিক করে দেয় কাকে গ্রহণ করবে”, আজ তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমানের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us