/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/khargram-2026-01-26-13-30-57.jpg)
Helpless Mother and Daughter: জরাজীর্ণ ঘরে মা ও মেয়ের বাস।
Rural Poverty Stories: স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবে দেশ যখন এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, তখন মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রাম ব্লকের রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক চরম অমানবিক চিত্র সামনে এসেছে। জরাজীর্ণ এক কুঁড়েঘরে দিনরাত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ৮০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধা মোমেনা বিবি সেখ এবং তাঁর ৪০ বছর বয়সী মেয়ে চাঁদ রেখা খাতুন। দুজনেই শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম, চলাফেরা করার ক্ষমতাটুকুও নেই তাঁদের।
বিপজ্জনক বাসস্থান ও অভুক্ত দিনলিপি:
মা ও মেয়ের একমাত্র আশ্রয় বলতে ভাঙাচোরা একটি খড়ের চালের ঘর। ঘরটি আগাছা আর লতাপাতায় এমনভাবে ঢেকেছে যে দূর থেকে বোঝার উপায় নেই সেখানে মানুষ থাকে। যে কোনো সময় মাথার ওপর ভেঙে পড়তে পারে চাল, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকেন এই দুই অসহায় নারী। তবে শুধু মাথার ওপর ছাদ নয়, পেটের খিদের লড়াইটাও সমান কঠিন। কোনো আয়ের উৎস নেই, কোনোদিন প্রতিবেশীদের দয়ায় খাবার জোটে, আবার কোনোদিন কাটে অনাহারে।
সরকারি উদাসীনতা:
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগেও এই পরিবারের কাছে পৌঁছায়নি কোনো সরকারি প্রকল্প। সরকারি খাতায় বার্ধক্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা বা 'বাংলার বাড়ি'-র মতো একগুচ্ছ প্রকল্প থাকলেও বাস্তবে এই দুই মহিলার জীবন যেন এক অন্ধকার গহ্বর। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি আধিকারিক বা জনপ্রতিনিধি তাঁদের খোঁজ নিতে আসেননি। বার্ধক্য ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য কোনো আবেদন মঞ্জুর হয়নি। পাকা বাড়ির প্রকল্পের তালিকা থেকেও ব্রাত্য এই পরিবার।
গ্রামের মানুষের দাবি, রাজনৈতিক নেতারা ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি দিলেও বিপদের দিনে কাউকেই পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই চরম উদাসীনতায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকায়।
গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, অবিলম্বে যদি তাঁদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান এবং নিয়মিত খাদ্যের ব্যবস্থা না করা হয়, তবে যেকোনো দিন অনাহারে বা ঘর চাপা পড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন উঠছে, ঘটা করে পালিত হওয়া সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি কি তবে কেবল কাগজে-কলমে? রামচন্দ্রপুরের এই দৃশ্য যেন সেই ব্যবস্থার দিকেই আঙুল তুলছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us