/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/21/kolkata-earthquake-bangladesh-epicenter-aftershock-warning-5-2-magnitude-2025-11-21-11-09-53.jpg)
ভূমিকম্পের পরের আফটারশক কেন হয়? কতটা বিপজ্জনক?
Kolkata Earthquake: শুক্রবার সকালে আচমকাই ভূকম্পনে কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলা। শহরজুড়ে হালকা থেকে তীব্র কম্পন অনুভূত হওয়ায় এক মুহূর্তের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর আফটারশক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। মূল কম্পনের পরবর্তী কয়েক মিনিট, ঘন্টা, দিন কিংবা সপ্তাহ জুড়েও আফটারশক অনুভূত হতে পারে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। সাধারণত এই কম্পনগুলির মাত্রা মূল ভূমিকম্পের তুলনায় কম হলেও, অনেক সময় এগুলির ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা যথেষ্ট তীব্র ও শক্তিশালী হতে পারে বলে জানাচ্ছেন ভূতত্ত্ববিদেরা।
আরও পড়ুন- বিএলও আপনার এনুমারেশন ফর্ম আপলোড করেছেন তো? ঘরে বসে মুহূর্তে কীভাবে জানবেন?
এদিন কলকাতার পাশাপাশি বাংলাদেশের একাধিক এলাকা কেঁপে ওঠে। শুক্রবার সকালে প্রবল ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়ায় ঢাকা সহ একাধিক অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২। এদিনের কম্পনের প্রভাব পড়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১০টা ৮ মিনিট থেকে ১০টা ১০ মিনিটের মধ্যে কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। কলকাতা, মালদা, নদিয়া, কোচবিহারসহ একাধিক জেলায় ভূমিকম্পের হালকা কম্পন টের পান বাসিন্দারা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উত্তর–পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায়ও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের ঢাকার ঘোড়াশাল এলাকা এবং এর গভীরতা ছিল মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
আরও পড়ুন- প্রবল কম্পন, কলকাতার পাশাপাশি বাংলাদেশে তীব্র ভূমিকম্প, আফটার শকের আশঙ্কা?
যদিও আফটারশক সাধারণত মূল ভূমিকম্পের তুলনায় কম তীব্র হয়, তবুও অনেক ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে। যা ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতিতে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইতিহাস বলছে, আফটারশক কখনও কখনও ভয়াবহ পরিণতিও ডেকে আনতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাইয়ে চিনের লুয়ানজিয়ান ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিকটবর্তী তাংশানে ৭.৫ মাত্রার আফটারশক আঘাত হানে। দ্বিতীয় কম্পনেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয় এবং অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিলাস্তরের মধ্যে আকস্মিক চাপ পরিবর্তন ও প্রধান ভূমিকম্পের ফাটল বরাবর শিলার সরে যাওয়ার ফলেই আফটারশক অনুভূত হয়। মূল ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকা এলাকাগুলিতে এই কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
আরও পড়ুন- এনক্রিপটেড অ্যাপে বোমা বানানোর পাঠ! রেড ফোর্ট কাণ্ডে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক
শুক্রবারের ভূমিকম্পের মাত্রা তুলনামূলকভাবে মাঝারি হলেও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে সঞ্চিত চাপ এখনও পুরোপুরি মুক্ত না-ও হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই আগামী সময়ে আবারও হালকা বা মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভূতত্ত্ববিদেরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাপের এই অস্থিরতা থেকেই আফটারশক বা নতুন কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে, তাই সাধারণ মানুষের সতর্ক ও সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us