/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/05/rg-kar-rape-victims-family-rejects-ncrb-report-naming-kolkata-safest-city-2025-10-05-08-19-47.jpg)
কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তিলোত্তমা?
kolkata Earthquake: শুক্রবার সকালে আচমকা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলি। বাংলাদেশে উৎপন্ন এই কম্পনের প্রভাবে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ তীব্র ঝাঁকুনিতে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে আলো, পাখা, ঝাড়বাতি, বোতলসহ নানান জিনিসপত্র কাঁপতে দেখা যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী লিখেছেন, “হঠাৎ কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভব করলাম।” তাঁর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক মানুষ ইতিমধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে খোলা জায়গায় জড়ো হয়েছেন।
আরও পড়ুন- ভূমিকম্পের পরের আফটারশক কেন হয়? কতটা বিপজ্জনক? কলকাতাকেও সেই সম্ভাবনা?
অন্য এক ব্যবহারকারী ঝাড়বাতি দুলতে থাকার ভিডিও শেয়ার করেন। আরও একজন এক্স-এ একটি নড়তে থাকা জলের বোতলের ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, “#earthquake in Kolkata।” ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎস বাংলাদেশে হলেও তীব্রতা ও গভীরতা সম্পর্কে সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখনো মেলেনি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকার নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। কলকাতা বা আশপাশের কোথাও বড় ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি।
শুক্রবার সকাল ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। EMSC জানিয়েছে, মূল কম্পনের পর হালকা আফটারশকও অনুভূত হয়েছে কিছু এলাকায়। এর আগে সকাল ১০টা ৮ মিনিটে নরসিংদীর কাছে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প নথিভুক্ত হয়। কুড়ি মিনিটের ব্যবধানে দুটি কম্পনে উত্তরে–দক্ষিণে গোটা কলকাতাই কেঁপে ওঠে। উচ্চভবনে থাকা বাসিন্দারা জানান, পুরো বিল্ডিং দুলে ওঠে। মালদা, নদিয়া, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, হুগলিসহ একাধিক জেলায় কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন- ভূমিকম্পের পরের আফটারশক কেন হয়? কতটা বিপজ্জনক? কলকাতাকেও সেই সম্ভাবনা?
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, ঢাকার কাছে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। তার প্রভাব পড়ে কলকাতা ছাড়াও উত্তর–পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। ত্রিপুরার বিভিন্ন স্থান থেকেও কম্পনের খবর আসে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২১ সালের মানচিত্র অনুযায়ী, কলকাতা অবস্থান করছে ‘সিসমিক জোন–৪’-এ, যা তুলনামূলকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। ‘সিসমিক জোন–২’ থেকে ‘সিসমিক জোন–৫’—এই চার ভাগে বিভক্ত ভারতের ভূমিকম্প-ঝুঁকির মানচিত্রে জোন–৪ মানে মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই অঞ্চলে বড় ভূমিকম্প সাধারণত দেখা যায় না, তবে বঙ্গোপসাগর, উত্তর–পূর্ব ভারত বা নেপালে কম্পনের উৎস হলে তার প্রভাব কলকাতায় পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট থাকে।
আরও পড়ুন- ফের সুপার অ্যাকশন মোডে ED! একসঙ্গে ২৫ জায়গায় একযোগে হানা
এর আগে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে উত্তরবঙ্গ, বিহার ও বাংলাদেশে সৃষ্ট ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে কলকাতায়। ২০১৫ সালে নেপালের ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্পের কম্পনও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছিল কলকাতায়। ২০১১ সালে সিকিম ভূমিকম্পের প্রভাবও পড়ে কলকাতায়।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ফের ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভোরের দিকে পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি তীব্রতার ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.২ এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মাটি থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনও বড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর মেলেনি।
ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে আফগানিস্তানেও। জাতীয় ভূতাত্ত্বিক কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় ভোর ১টা ৫৯ মিনিটে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের প্রায় ১৯০ কিলোমিটার নিচে। এর কিছুক্ষণ পর ভোর ৩টা ৯ মিনিটে পাকিস্তানে আরও একটি শক রেকর্ড হয়, যার মাত্রা ছিল ৫.২।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ভারতীয় ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলেই এই অঞ্চলে প্রায়ই হালকা থেকে মাঝারি বা তীব্র কম্পন দেখা দেয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us