/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/24/suvendu-2025-10-24-13-30-24.jpg)
Calcutta High Court: হাইকোর্টের রায়ে পর কী বললেন বিরোধী দলনেতা?
প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিনের রায়ে বিচারপতিরা জানান, “দীর্ঘ ৯ বছর দায়িত্ব পালনের পর তাদের চাকরি বাতিল করা হলে তা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবারের ওপর গুরুতর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।” আজকের এই রায়ের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের রায় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় ছিল তথ্যভিত্তিক, আর ডিভিশন বেঞ্চের রায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেওয়া হয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, বিচারব্যবস্থার প্রক্রিয়া একই হওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, "বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়ই আসল সত্যের উপর দাঁড়ানো রায়। কারণ তা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছিল।" তাঁর অভিযোগ, "সরকারের পক্ষ থেকেই স্বীকার করা হয়েছে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক হয়নি, ফলে ডিভিশন বেঞ্চের মানবিক রায় অযোগ্যদের হাতে একটি বড় অস্ত্র তুলে দিল"।
'চাকরি খাওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়, ৩২ হাজারের চাকরি বহাল রাখার রায় ঘোষণা হতেই উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী
প্রায় তিন বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টেনে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিল আদালত। এদিনের রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এর রায় বাঞ্ছনীয় নয়, এই রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারে যারা দুর্নীতি করেছেন তারা আরও উৎসাহিত হবেন। একটা বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাবে দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়। আজকের রায়ে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেছেন বিচাপতিরা, যারা যোগ্য হয়েও চাকরি পাননি সেদিকটা উপেক্ষিত রয়েই গেল"। তিনি আরও বলেন, "চাকরি প্রার্থীরা ঠিক করবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে যাবে কিনা না। তবে এটা ঠিক একটা অস্থিরতা থেকে বাঁচল সরকার। রায় যারা মানবে না তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চললেও আজকের রায়ে তারা বল পাবে। আজকের এই রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে"।
এদিন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম প্রমাণিত হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, নয় বছর চাকরি করার পর এত বড় সংখ্যক প্রাথমিকে শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করা হলে তাদের পরিবার মারাত্মক সংকটে পড়বে। আদালত মন্তব্য করে, “কিছু ব্যর্থ প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো সিস্টেমকে নষ্ট করা যায় না। নয় বছর পর কারও চাকরি কেড়ে নেওয়া অপ্রত্যাশিত ও মানবিক দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য।”
'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ নিয়ে বিতর্ক চরমে! শেষমেষ কী বললেন যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া?
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে কোনও চাকরির পরীক্ষা স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়নি। সম্প্রতি যে পুলিশে নিয়োগ হয়েছে, সেখানেও OMR-এর কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি। আমার বিশ্বাস প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সঠিক জায়গাটি ধরেছিলেন। সেটা বেঠিক হওয়ার কোনও জায়গা নেই।"
তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত জানায়, প্রথমে ২৬৪টি নিয়োগে অনিয়ম ধরা পড়লেও পরবর্তীতে আরও ৯৬ জনের নাম তদন্তের আওতায় আসে। তবে এই নির্দিষ্ট অনিয়মের জন্য পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা যুক্তিযুক্ত নয় বলে মত দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিচারব্যবস্থাকে সম্মান করি। আমাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁদের চাকরি ফিরে পেয়েছেন, তাতে আমি খুশি।”
Meesho IPO–তে SBI Mutual Fundকে বড়সড় বরাদ্দ, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একাধিক বড় বিনিয়োগকারী
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেলে তিনি বিস্তারিত বিশ্লেষণ করবেন। একই সঙ্গে বঞ্চিত প্রার্থীদের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথ এখনও খোলা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিন সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিরোধী দলনেতা বলেন, "আজকের রায়ে যারা চাকরি করছেন তাদের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তারা পরিস্থিতির শিকার, আমার সহানুভূতি তাদের সঙ্গে আছে। মানিক ভট্টাচার্যরা মমতার নির্দেশে যে কাজ করেছেন তা অনৈতিক। পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা আজকের রায়ে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে আদালত। ৩২ হাজারের ক্ষেত্রে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেছে আদালত। কিন্তু যারা বঞ্চিত হয়েছেন সেই ৯ লক্ষ ৬৮ হাজার তাদের হাতে আজ ডিভিশন বেঞ্চ একটা মারাত্মক অস্ত্র তুলে দিয়েছে পদ্ধতিগত ত্রুটির উল্লেখ করে। তারা এখন কি করবেন সেটা তাদের ব্যাপার"।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us