/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/law-2026-01-28-12-43-50.jpg)
Gangrape Case Trial West Bengal: প্রতীকী ছবি।
শহরকে স্তম্ভিত করে দেওয়া দক্ষিণ কলকাতার ল কলেজ গণধর্ষণ মামলায় মঙ্গলবারও শুরু করা গেল না সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া। শুনানির শুরুতে আদালতের কাছে এক আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ দাবি করে, অন্য কোনো সাক্ষীর আগে নির্যাতিতা ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করা হোক। আলিপুর আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সব পক্ষের সওয়াল শোনার পর এই আবেদনের রায়দান স্থগিত রেখেছেন।
৯ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি
আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষ্য দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু নির্যাতিতার বয়ান আগে নথিভুক্ত করার আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে যায়। ধৃত সিকিউরিটি গার্ড পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, "নির্যাতিতার বয়ান আগে রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বিচারক এই বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন।"
মামলাটিতে মোট ৮৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতেই চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, অপহরণ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল।
অভিযুক্তদের তালিকায় কারা?
গত ২৫ জুনের এই নৃশংস ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং আগস্ট মাসে চার্জশিট পেশ করে। অভিযুক্তরা হল, মনোজিত মিশ্র ওরফে ম্যাঙ্গো, কলেজের প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক কর্মী এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেতা (মূল অভিযুক্ত)। জাইব আহমেদ ও প্রমিত মুখোপাধ্যায়। এরা কলেজের দুই ছাত্র। পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়, কলেজের নিরাপত্তা রক্ষী (বর্তমানে জামিনে মুক্ত)।মঙ্গলবার মনোজিত, জাইব ও প্রমিতকে জেল থেকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা পিনাকীও শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-SIR: নবান্ন-কমিশন ফের মুখোমুখি: তিন IAS-এর বদলি বাতিলের কড়া নির্দেশ দিল্লির
ব্ল্যাকমেল ও ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ভয়াবহ অভিযোগ
২০২৫ সালের জুন মাসের সেই অভিশপ্ত রাতে ২৪ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে কলেজেরই সিকিউরিটি গার্ডের রুমে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এই অপরাধ ছিল সুপরিকল্পিত।চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপত্তা রক্ষী পিনাকী ঘরটি ছেড়ে দিয়ে গেট আটকে দূরে চলে যান।
ঘরের দেওয়ালে এগজস্ট ফ্যান লাগানোর জন্য রাখা গর্ত দিয়ে গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে অভিযুক্তরা। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন থেকে সেই ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।মূল অভিযুক্ত মনোজিত মিশ্র সেই ভিডিও ব্যবহার করে নির্যাতিতাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করত বলেও চার্জশিটে জানিয়েছে পুলিশ।
ধর্ষণ ও অপহরণের পাশাপাশি মনোজিত, জাইব ও প্রমিতের বিরুদ্ধে আইটি অ্যাক্ট (IT Act) এবং মহিলার অনুমতি ছাড়া আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগও আনা হয়েছে। এখন ৯ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us