/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/03/kolkata-metro-2025-09-03-10-29-11.jpg)
Kolkata Metro: কলকাতা মেট্রো।
Kolkata Metro: কলকাতা মেট্রো লন্ডন ও মস্কোর মতো ৯০ সেকেন্ড অন্তর ট্রেন পরিষেবা চালানোর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে পুরনো মেট্রো করিডর ব্লু লাইনে ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি ৬ থেকে ১০ মিনিট। এই লক্ষ্য পূরণে পরিষেবা, যাত্রী-সুবিধা ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি আপগ্রেডের উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা মেট্রো, সোমবার এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়।
এক মেট্রো আধিকারিক বলেন, “এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাওয়ার সাপ্লাই ব্যবস্থা, ট্র্যাকশন সাব-স্টেশন, টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম, পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি সিস্টেম), সিগন্যালিং, তৃতীয় রেল এবং ট্র্যাক ব্যবস্থা—সবই আধুনিকভাবে আপগ্রেড করা হবে। ভবিষ্যতে ব্লু লাইনে কম হেডওয়েতে ট্রেন চালিয়ে ৯০ সেকেন্ড ইন্টারভাল অর্জনই মূল লক্ষ্য, যা বর্তমানে লন্ডন ও মস্কো মেট্রোয় চালু রয়েছে।”
এই আপগ্রেড শেষ হলে যাত্রীরা আরও আরামদায়ক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা পাবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অগ্নি-নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। কার্বন নিঃসরণও কমবে বছরে প্রায় ১২,৩০০ মেট্রিক টন। রেল মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পগুলির জন্য ‘আমব্রেলা ওয়ার্ক’ অনুমোদন করেছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ব্লু লাইনে ট্রেন চলাচল আরও শক্তিশালী করতে কালিঘাট, নেতাজি ভবন, ময়দান, এসপ্লানেড, এম.জি. রোড, শোভাবাজার-সুতানুটি এবং বেলগাছিয়া-শ্যমবাজারের মাঝামাঝি এলাকায় নতুন সাতটি সাব-স্টেশন তৈরি হবে। এর ফলে ব্লু লাইনের প্রতিটি স্টেশনে ট্র্যাকশন সাব-স্টেশন থাকবে, যেমন রয়েছে পার্পল ও অরেঞ্জ লাইনে।
চাঁদনি চক ও গীতাঞ্জলি স্টেশনে দুটি নতুন ট্র্যাকশন সাব-স্টেশনের কাজের অর্ডার ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। চাঁদনি চকে তৈরি হওয়া নতুন সাব-স্টেশনটি এসপ্লানেড ও সেন্ট্রাল স্টেশনের মাঝে রেক জমে যাওয়ার সমস্যা কমাবে।
এছাড়াও স্টেশন ও টানেলের ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেম আপগ্রেড করা হচ্ছে। বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর রেকগুলির পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অত্যাধুনিক টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (TVS) ও স্মোক এক্সট্রাকশন সিস্টেম চালু করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন-'অতি বাড় বেড়ো না, ঝড়ে পড়ে যাবে',শুভেন্দুকে নিশানা, মোদীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ সায়নির
মেট্রোর বিবৃতি অনুযায়ী, আগের ১১০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সেন্ট্রিফিউগাল ফ্যানগুলি ১৪টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা চলত, যার জন্য বছরে তিন কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যেত—ব্যয় ছিল প্রায় ২১ কোটি টাকা। ২০২১-২২ সালে ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি ড্রাইভ লাগিয়ে এই খরচ অর্ধেকে নামানো হয়। এখন এসব ফ্যান বদলে এমন অ্যাক্সিয়াল ফ্যান লাগানো হবে, যেগুলি ২৫০°C পর্যন্ত তাপমাত্রায় টানা দুই ঘণ্টা চালানো যায়।
আগুন বা ধোঁয়া, টানেলের তাপমাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়ানো, অথবা কার্বন ডাই-অক্সাইড মাত্রা বেড়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন ফ্যানগুলি চালু হবে।
টোকিওভিত্তিক এক সংস্থার ভারতীয় শাখা ব্লু লাইনের স্টেশনগুলির পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ECS) ও টানেল ভেন্টিলেশন সিস্টেম (TVS) আপগ্রেডের কাজ নিয়েছে। সংস্থাটি সিঙ্গাপুর মেট্রোর ১০০-র বেশি আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনে এই সিস্টেম সফলভাবে স্থাপন করেছে। সম্প্রতি জাপানি ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল জাতীন দাস পার্ক স্টেশনের এয়ার-কন্ডিশনিং প্ল্যান্টসহ অন্যান্য এলাকাও পরিদর্শন করেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us