/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/06/nrs-759-2.jpg)
এনআরএসে অব্যাহত অচলাবস্থা। ছবি: অরুণিমা কর্মকার।
এ কোন সকাল! কার্যত একথাই যেন আওড়াচ্ছেন রোগীর পরিজনরা। কারও আজ অস্ত্রোপচারের কথা ছিল, কারও আজ ডাক্তার দেখানোর দিন ছিল। কিন্তু সব আপাতত ‘বাতিল’। সকাল থেকে ‘বন্ধ’ নীলরতন সরকার হাসপাতাল। একদিকে অবস্থান বিক্ষোভে বসে জুনিয়র ডাক্তাররা, অন্যদিকে রোগীদের চিকিৎসা করাতে এসে হিমশিম অবস্থা পরিজনদের। কেউবা কখনও পুলিশের কাছে ক্ষোভ উগড়ে বলছেন, ‘‘একটা দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তাই বলে এভাবে চলবে!’’। কেউ মেজাজ হারিয়ে বলছেন ‘‘সবাই বলছে কিছু করতে পারব না। কে বলতে পারবে? আমরা কোথায় যাব? কে সুরাহা করবে?’’। বহু রোগী ফিরে যাচ্ছেন, কেউবা এনএরআসে বিক্ষোভের তীব্রতার আঁচ না বুঝেই হাসপাতালে এসেছেন ডাক্তার দেখাতে, কিন্তু পরিস্থিতি বুঝে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন। কথা ছিল, ১২ ঘণ্টা আউটডোর পরিষেবা বন্ধ থাকবে। কিন্তু এনআরএসে বন্ধ রয়েছে জরুরি পরিষেবাও। শুধু কী তাই, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরাও শুশ্রুষা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/06/nrs-759-new.jpg)
আরও পড়ুন: কেন হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ রাখতেই হল?
এনআরএস হাসপাতালের চরম অচলাবস্থা দেখে খানিকটা মেজাজ হারিয়ে মালদার বাসিন্দা এক রোগীর আত্মীয় বললেন, ‘‘বলছে কিছুই করতে পারব না। কে বলতে পারবে? আমরা কোথায় যাব? কে সুরাহা করবে? ৪ তারিখে ভর্তি করেছিলাম। আজ অপারেশন করার কথা ছিল, বাতিল করে দিল। বলছে কিছু বলতে পারব না’’। আরেক রোগীর পরিজন পুলিশকে ক্ষোভের সুরে বললেন ‘‘একাট দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, তার জন্য এভাবে পড়ে থাকবে রোগীরা?’’ এদিকে, এনআরএসে জট কাটাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনও রফাসূত্র মেলেনি। রাতভর বিক্ষোভে বসে জুনিয়র ডাক্তাররা। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
এনআরএসের পাশাপাশি আজ কলকাতা-সহ রাজ্যের বহু হাসপাতালেই কার্যত থমকে গিয়েছে চিকিৎসা পরিষেবা। কলকাতা মেডিক্যাল, এসএসকেএম হাসপাতালেও বন্ধ রয়েছে আউটডোর পরিষেবা। ডক্টরস ফোরামের ডাকে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আজ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আউটডোর পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার জেরেই ভোগান্তির মুখে রোগীরা। উল্লেখ্য, এনআরএসে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। জুনিয়র ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে মৃত রোগীর পরিজনদের বিরুদ্ধে। পরিবহ গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার প্রতিবাদেই সরব চিকিৎসক মহল।