ঘরে ফিরল ঘরের মেয়ে। আর একটু হলেই যে কিনা মুম্বই থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছিল। কলকাতা পুলিশের নর্থ পোর্ট থানার তদন্তকারী টিম সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনলেন ওই নাবালিকাকে, সঙ্গে এলো তার অপহরণকারী রমজান খান।
২০ নভেম্বর, রাত ১১.৩০ নাগাদ নর্থ পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করতে আসেন চায়না বিবি। জানান, তাঁর ১৬ বছরের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। মেয়েটিকে হয়তো শারীরিক অত্যাচারেরও শিকার হতে হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চায়না বিবি। একইসঙ্গে তিনি জানান, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোডের পাশের ঝুপড়ি থেকে মেয়েটিকে বাইরে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল রমজান নামের একজন, যে এলাকাবাসী নয়। এই ঘটনার পরে তার আর হদিশও মেলেনি।
তদন্তে নেমে অফিসারেরা জানতে পারেন, সেই নাবালিকা দু'দিন ধরে নিখোঁজ, এবং রমজান মুম্বইয়ের বাসিন্দা। কিন্তু তার সম্পর্কে এর বেশি তথ্য পাওয়া যায় নি। অন্যদিকে জানা যায়, নিখোঁজ নাবালিকার দিদির বিয়ে হয়েছে মুম্বইতেই, এবং এই বছরের জানুয়ারি মাসে দিদির কাছে একবার গিয়েওছিল সে। মেয়েটির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে মুম্বইয়ের যোগসূত্র আছে, এই সন্দেহে তদন্তকারীরা প্রযুক্তির সাহায্যে জানতে পারেন, রমজানের অবস্থান মুম্বইয়ে।
আরও পড়ুন: শিশু শ্রমের খপ্পর থেকে ৪ কিশোরকে উদ্ধার করল পুলিশ
মেয়েটিকে যে অপহরণ করে মুম্বইতেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বুঝতে পেরে তদন্তকারীরা আশঙ্কায় ছিলেন যে, তাকে যে কোনও মুহূর্তে পাচার করে দেওয়া হতে পারে অন্যত্র। অবশেষে ৩০ নভেম্বর নর্থ পোর্ট থানার অতিরিক্ত অফিসার-ইন-চার্জ তীর্থঙ্কর মণ্ডলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল মুম্বই যায়। সেখানে পৌঁছেই রমজানের অবস্থান ফের নিশ্চিত করা হয়। এরপর স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে নর্থ পোর্ট থানার টিম ২ ডিসেম্বর তল্লাশি চালায় কল্যাণ এলাকায়। সেখানে রমজানের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোরীটিকে। পালানোর চেষ্টা করেও ধরা পড়ে রমজান খান, সৌজন্যে নর্থ পোর্ট থানা ও মুম্বই পুলিশের যৌথ টিম।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, রমজান লক্ষ্ণৌয়ের বাসিন্দা, এবং নারীপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই সে অপহরণ করেছিল ওই নাবালিকাকে। মুম্বইয়ের আদালতের অনুমতি নিয়ে রমজানকে আনা হয়েছে কলকাতায়। তাকে বিশেষ POCSO (Protection of Children from Sexual Offences Act) আদালতে তোলা হয় আজই। অভিযুক্তের "কঠোর শাস্তি" সুনিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। আপাতত তদন্ত চলছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকিরাও ধরা পড়বে দ্রুতই, এমন আশ্বাস মিলেছে লালবাজারের তরফে। নাবালিকা মেয়েটিকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তার পরিবারের কাছে।