/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/darjeeling-winter-temperature-cold-wave-west-bengal-weather-update-2025-12-04-21-56-39.jpg)
দার্জিলিংয়ে হুড়মুড়িয়ে পারদ পতন, কলকাতায় একধাক্কায় তাপমাত্রা কমল অনেকটাই
Kolkata Winter Update: শীতের দাপটে কাঁপছে গোটা বাংলা। টানা দু’দিন ধরে কলকাতার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। ভোরের দিক থেকেই হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় নাজেহাল শহরবাসী। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই রাতের তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরের হাওয়ার প্রভাবেই এই তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আগামী কয়েকদিন রাতের ঠান্ডা একই রকম অনুভূত হতে পারে বলে পূর্বাভাস। বিশেষ করে ভোর ও রাতের দিকে শীতের কামড় আরও তীব্র হবে। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে সামান্য স্বস্তি মিললেও শীতের রেশ বজায় থাকবে।
সপ্তাহান্তেও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে শীতের দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য ও সমতল জেলাগুলিতে তাপমাত্রা আরও নীচে নামতে পারে বলে আশঙ্কা। আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাতত বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই, তবে কুয়াশার দাপট বাড়তে পারে ভোরের দিকে।
Dzongu: যেখানে প্রকৃতি কথা বলে, মানুষ শোনে! হিমালয়ের কোলে লুকিয়ে থাকা স্বর্গ ‘জোঙ্গু’
এমন পরিস্থিতিতে শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। শীতজনিত অসুস্থতা এড়াতে গরম পোশাক ব্যবহার, ভোরে অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরনো এবং পর্যাপ্ত উষ্ণ পানীয় গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যবাসীকে আরও কয়েকদিন এই কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই দিন কাটাতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত আবহাওয়া
শীতের কুয়াশা কাটতেই রোদের উষ্ণতায় কিছুটা স্বস্তি পেল কলকাতা। বৃহস্পতিবার সকালে কুয়াশা তুলনামূলক কম থাকায় দিনের তাপমাত্রা বেড়ে সর্বোচ্চ ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ১১ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকতে পারে। যদিও শীতের অনুভূতি পুরোপুরি কাটবে না বলেই জানিয়েছে দফতর।
বুধবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের ১০.২ ডিগ্রির প্রায় সমান এবং স্বাভাবিকের থেকে এখনও অনেকটাই কম। দমদমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৮ ডিগ্রিতে, আর ব্যারাকপুরে আরও কমে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। তবে মঙ্গলবারের তুলনায় এদিন শীতের কামড় অনেকের কাছেই কম তীব্র বলে মনে হয়েছে। ঠান্ডা থাকলেও তা খুব একটা কষ্টকর মনে হয়নি অনেকের কাছেই।
আবহাওয়া দফতরের মতে, এই পার্থক্যের মূল কারণ ছিল কুয়াশা না থাকা। আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার আকাশ মূলত পরিষ্কার ছিল। সকাল ৮টার পর থেকেই রোদ ঝলমলে আকাশের দেখা মেলে। সারাদিন আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যালোকের প্রভাবে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে। বাতাসের গতিবেগে খুব একটা পরিবর্তন না হলেও সূর্যের উপস্থিতিই ঠাণ্ডার অনুভূতিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
মঙ্গলবার যেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি, সেখানে বুধবার তা বেড়ে ২২ ডিগ্রিতে পৌঁছয়। যদিও এই তাপমাত্রা এখনও স্বাভাবিকের থেকে প্রায় তিন ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সাধারণত সূর্যোদয়ের সময়ই দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়। মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে সর্বনিম্ন ১০.২ ডিগ্রি রেকর্ড হয়েছিল এবং ঘন কুয়াশা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী থাকায় দুপুর পর্যন্ত আবহাওয়া ছিল মেঘলা। দুপুর নাগাদ তাপমাত্রা ছিল প্রায় ১৪ ডিগ্রি। অন্যদিকে বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে সর্বনিম্ন ১০.৩ ডিগ্রি রেকর্ড হলেও, দুপুরে তা বেড়ে প্রায় ১৯ ডিগ্রিতে পৌঁছয়।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক প্রধান এইচ আর বিশ্বাস জানান, বুধবার সকালে দমদমে ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারের নিচে নেমে গিয়েছিল। আলিপুরে মাঝারি কুয়াশা দেখা গিয়েছিল। তবে বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে বাতাসের গতি বাড়ায় কুয়াশা দ্রুত সরে যায় এবং সেই কারণেই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়েছে।
জেলাগুলিতেও শীতের দাপট বজায় রয়েছে। বীরভূমের শ্রীনিকেতনে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬.৬ ডিগ্রি। আরও বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমেছে। পাহাড়ে শীত আরও তীব্র আকার নিয়েছে। দার্জিলিঙে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মাত্র ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন রাজ্যের উপর দিয়ে শক্তিশালী উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর দিকের শুষ্ক ঠান্ডা হাওয়া বইবে। ফলে ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবার বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে সকালে ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে দৃশ্যমানতা ৫০ থেকে ১৯৯ মিটারের মধ্যে নেমে যেতে পারে।
শতাব্দী প্রাচীন পুরসভায় শ'য়ে শ'য়ে কর্মী ছাঁটাই, নিয়োগ করল কে? বিরাট মন্তব্যে তোলপাড় ফেললেন মহুয়া
শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ এবং হুগলিতে ‘কোল্ড ডে’ পরিস্থিতি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
এইচ আর বিশ্বাস জানান, আগামী সাত দিনে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির বেশি ওঠার সম্ভাবনা কম। দিনের তাপমাত্রা দু’একদিন সামান্য বাড়লেও কুয়াশার কারণে আবার কমে যেতে পারে। ফলে শীতের কামড় আপাতত বজায় থাকবে।
এদিকে, সমুদ্রের উপর তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপ গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এটি শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার এবং চেন্নাই থেকে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এই সিস্টেমটি আরও শক্তিশালী হলেও এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না বলে স্পষ্ট করেছে আবহাওয়া দফতর।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us