Nadia News: মৃত মায়ের চক্ষুদানই কাল হলো? সমাজকর্মী ছেলেকে সপরিবারে জেলে পাঠাল পুলিশ!

Krishnanagar Eye Donation Case: মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে শ্রীঘরে সমাজকর্মী ও শিক্ষক আমির চাঁদ! কৃষ্ণনগরে মরণোত্তর চক্ষুদানের পর 'চোখ চুরির' অভিযোগে সপরিবারে গ্রেফতার ৫।

Krishnanagar Eye Donation Case: মৃত মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে শ্রীঘরে সমাজকর্মী ও শিক্ষক আমির চাঁদ! কৃষ্ণনগরে মরণোত্তর চক্ষুদানের পর 'চোখ চুরির' অভিযোগে সপরিবারে গ্রেফতার ৫।

author-image
Mousumi Das Patra
New Update
Krishnanagar Eye Donation Case, Social Activist Arrested, West Bengal Organ Donation Controversy,কৃষ্ণনগর চক্ষুদান বিতর্ক, সমাজকর্মী আমির চাঁদ গ্রেফতার, মরণোত্তর অঙ্গদান বিতর্ক

Kotwali Police Station: কোতোয়ালি থানা।

রক্ষণশীলতার বেড়া ভেঙে মৃত মায়ের চক্ষুদান করে কি চরম মাশুল দিতে হলো এক সমাজকর্মীকে? কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার সেনপুর এলাকার ঘটনায় এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। মৃত মায়ের কর্নিয়া দান করার অপরাধে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পেশায় শিক্ষক ও সমাজকর্মী আমির চাঁদসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে। সোমবার তাঁদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisment

স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় সেনপুরের বাসিন্দা রাবেয়া বিবির (৬৫)। তিনি জীবিত অবস্থাতেই বিখ্যাত সংস্থা ‘গণদর্পণ’-এর মাধ্যমে মরণোত্তর অঙ্গদানের অঙ্গীকার করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিনিধি ও চিকিৎসকরা এসে নিয়ম মেনে কর্নিয়া সংগ্রহ করেন। কিন্তু বিকেলে এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। প্রতিবেশীদের একাংশ বাড়ির লোকজনের ওপর চড়াও হয় এবং ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন- SIR case: ‘এসআইআর হবেই, সব রাজ্যকে এটা বুঝতে হবে’, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

Advertisment

উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে এক প্রতিবেশী অভিযোগ করেন যে, পরিবারের সদস্যরা মৃত রাবেয়া বিবির চোখ ‘বিক্রি’ করে দিয়েছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আমির চাঁদ, তাঁর কন্যা ও পুত্রবধূসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। যদিও পরিবারের দাবি, পুলিশ প্রথমে তাঁদের নিরাপত্তার অজুহাতে বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছিল, কিন্তু পরে ‘চোখ চুরির’ মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন-Widow remarriage: শ্বশুর নয়, যেন সাক্ষাৎ বাবা! ৩০০০ অতিথিকে খাইয়ে ঘটা করে পুত্রবধূর জীবন রাঙালেন এক চা শ্রমিক

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। এপিডিআর-এর তাপস চক্রবর্তী বলেন, "গণদর্পণের মতো সংস্থার নথি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন তদন্ত না করে গ্রেপ্তার করল? এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।" একই সুর শোনা গেছে কংগ্রেস নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের গলায়। তাঁর দাবি, আমির চাঁদ বর্তমানে কংগ্রেস করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি।

পুলিশের সাফাই

বিতর্কের মুখে পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় পরিবারটি চক্ষুদানের বৈধ কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রবল বিক্ষোভ ও অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ধৃতদের আইনজীবী অরূপ চট্টোপাধ্যায় জানান, আদালতে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র পেশ করা সত্ত্বেও বিচারক জামিন মঞ্জুর করেননি। আপাতত তিন দিনের জেল হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে ওই সমাজকর্মী পরিবারকে।

Arrested Nadia district news Krishnanagar Eye Donation Case