/indian-express-bangla/media/media_files/2025/01/09/CBF7JvTT9ozUtGIcku8h.jpg)
শতাধিক ভূতুড়ে কর্মীর হদিশ!
কৃষ্ণনগর পুরসভায় ভূতুড়ে কর্মী চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতেই প্রথম ধাপে ১০৬ জন কর্মীকে ছাঁটাই করলেন পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। সোমবার এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। দীর্ঘদিন ধরে কৃষ্ণনগর পুরসভায় অনিয়ম, অচলাবস্থা এবং গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগ থাকায় পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। নাগরিকদের ক্ষোভ বাড়তেই মাসখানেক আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব নেন এবং দায়িত্ব নিয়েই পুরসভার ‘ওয়ার্ক কালচার’ বদলের উদ্যোগ নেন।
আরও পড়ুন- বছরের শেষ মাসের প্রথম দিনে হুড়মুড়িয়ে কমল সোনার দাম, কলকাতার দর শুনে চমকে যাবেন
প্রতিদিন সকাল সাড়ে দশটায় পুরসভায় হাজির, কর্মীদের সঙ্গে কথা, সাফাই কর্মীদের কাজের তদারকি সব মিলিয়ে পুরসভায় কাজের জোরদার নজরদারি চালাচ্ছেন। সপ্তাহখানেক আগে খাতা-কলম ঘেঁটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কাগজে-কলমে এত কর্মী, কাজে নামছে কোথায়? সুস্থ পরিষেবা পেতে শহরকে দ্রুত ঝকঝকে করা দরকার।”
ভূতুড়ে কর্মীর অভিযোগ প্রথম সামনে আনে ie বাংলা। সেই প্রতিবেদনের পরই আলোড়ন পড়ে যায়। সোমবার ১০৬ জন ক্যাজুয়াল কর্মী ছাঁটাইয়ের মধ্য দিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট করে দিল, অভিযোগ ভিত্তিহীন নয়। পুরসভা সূত্রে খবর, এই প্রক্রিয়া আরও চলবে।
আরও পড়ুন- রাজ্যে কবে বিধানসভা নির্বাচন? জানিয়েই দিলেন শুভেন্দু অধিকারী
অনেকদিন ধরেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় ভূতুড়ে কর্মী থাকার অভিযোগ ওঠে। প্রশ্ন উঠছিল কারা এই কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করছে? কোন নেতাদের প্রশ্রয়ে তাঁরা কাজ না করেও মাসের পর মাস বেতন তুলছেন? এই নিয়ে নাগরিকদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। একইসঙ্গে দাবি উঠছে সম্পূর্ণ বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।
এদিকে পুরসভার আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত সঙ্কটজনক। গত ১০ মাস ধরে রাজস্ব আদায় ঠিকভাবে না হওয়ায় সেভিংস থেকে কর্মীদের বেতন দিতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই ২৭ নভেম্বর পুরপ্রশাসক নির্দেশ দেন ছুটির দিনে কাজ করলে তবেই মজুরি মিলবে। কাজ না করলে কোনও টাকা নয়। সেই নির্দেশে ২০১৯ সালের ইউডিএমএ বিভাগের একটি নির্দেশনার উল্লেখ থাকে, যেখানে পরিষ্কার বলা ছিল দপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোনও ক্যাজুয়াল কর্মী নেওয়া যাবে না। তবুও অনুমতি ছাড়াই কৃষ্ণনগর পুরসভায় বহু কর্মী নিয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন- "SIR হলে তৃণমূলের আসন আরও বাড়বে", বিরাট হুঙ্কারে বিজেপির বুকে কাঁপুনি ধরালেন অভিষেক
প্রথম দফায় যাঁরা ছাঁটাই হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আদার ক্যাটাগরিতে ছাঁটাই হয়েছেন ১ জন ,ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স কালেক্টর পদে ১০ জন এবং সর্বাধিক ৯৬ জন সাফাই কর্মী। মোট ছাঁটাই ১০৬ জন। এঁরা সকলেই ‘ক্যাজুয়াল স্টাফ’ হিসাবে কর্মরত ছিলেন।পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, “কোষাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। অতিরিক্ত কর্মীর দরকার নেই। কর্মী নিয়োগের পদ্ধতিও সঠিক ছিল না। তাই কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ও আয় বাড়িয়ে পুরসভার আর্থিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us