/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/30/muni-2025-10-30-10-54-35.jpg)
পুরসভায় কর্মী ছাঁটাই।
Krishnanagar Municipality: ভূতুড়ে কর্মী চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হতেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২৫০ জন ক্যাসুয়াল কর্মীকে ছাঁটাই করলেন পুরপ্রশাসক। পুরসভার কোষাগারের চরম আর্থিক সঙ্কটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুর প্রশাসন। এর আগে মাসখানেক আগে প্রথম ধাপে ১০৬ জন ঠিকাকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় দফার ছাঁটাইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর পুরসভার গেটের সামনে বিক্ষোভে শামিল হন ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কোনও রকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ করে কাজ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন আরও উত্তেজনা ছড়ায় এক কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ছাঁটাই হওয়া কর্মী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, প্রলয় মল্লিক নামে পুরসভার এক কর্মী ছাঁটাইয়ের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।
তবে এই অভিযোগ খারিজ করেছেন পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যিনি স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন, তাঁর নাম ছাঁটাই হওয়া তালিকায় নেই।” তা সত্ত্বেও এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন বছরের শুরুতেই কৃষ্ণনগর জুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সার্ধ শতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া কৃষ্ণনগর পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক সমস্যায় জর্জরিত। রাজ্যের বর্ধিষ্ণু পুরসভাগুলির মধ্যে অন্যতম হলেও, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পুরসভায় গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পুর পরিষেবা ভেঙে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাধারণ নাগরিকরা।
এই পরিস্থিতিতে মাসখানেক আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী কৃষ্ণনগর পুরসভার পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি পুরকর্মীদের ‘ওয়ার্ক কালচার’ বদলাতে উদ্যোগী হন। সকাল সাড়ে দশটার মধ্যেই পুরসভায় হাজির হচ্ছেন, সন্ধ্যা পেরিয়েও কাজ করছেন। সাফাই কর্মী থেকে শুরু করে দপ্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কাজের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
তবে বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেই বড় সমস্যায় পড়ছেন পুরপ্রশাসক। গত ১০ মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায় কার্যত থমকে থাকায় পুরসভার কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সঞ্চয় থেকেই কর্মীদের বেতন মেটানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৭ নভেম্বর পুরসভার আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ছুটির দিনে অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে কাজের বিনিময়ে মজুরি দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেন পুরপ্রশাসক। সেই নির্দেশিকায় ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি নির্দেশের উল্লেখ ছিল, যেখানে স্পষ্ট বলা আছে, দপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মী নিয়োগ করা যাবে না। অথচ সেই নির্দেশ অমান্য করেই কৃষ্ণনগর পুরসভায় অনুমতি ছাড়া একাধিক ক্যাসুয়াল স্টাফ নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন- Offbeat Sea Beach: ওড়িশার লুকনো স্বর্গ অপরূপ এই সাগরপাড়! পুরী গেলে এপ্রান্তে ঢুঁ মারতে ভুলবেন না
এই প্রেক্ষিতেই প্রথম ধাপে ১০৬ জন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২৫০ জন ক্যাসুয়াল কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ছাঁটাই নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কোনও ইঙ্গিতেই এই সিদ্ধান্ত? যদিও এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি।
তথ্যভিজ্ঞ মহলের মতে, কৃষ্ণনগর পুরসভা এলাকায় ভোটের অঙ্কে সাম্প্রতিক লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পিছিয়ে পড়েছিল, যা রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পুরসভার ঘটনাবলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, “পুরসভার কোষাগারের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই বাধ্য হয়েই কর্মী ছাঁটাই করতে হচ্ছে।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us