fake staff: খাতা ঘাঁটতেই চোখ ছানাবড়া! শতাব্দীপ্রাচীন পুরসভায় কাজে ৩৫০, বাকি ৬৫০ জন কোথায়? প্রশ্ন পুরপ্রশাসকের

ghost employees: রাজ্যের স্বনামধন্য শতবর্ষ প্রাচীন পুরসভায় চাঞ্চল্য! খাতা ঘেঁটে পুরপ্রশাসকের চোখ ছানাবড়া — তালিকায় ১,০০০ কর্মীর নাম, অথচ মাঠে কাজে মাত্র ৩৫০ জন। কোথায় বাকি ৬৫০ কর্মী? পুরসভায় ‘ভূতুড়ে’ কর্মী ও বেতন কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমেছেন পুরপ্রশাসক।

ghost employees: রাজ্যের স্বনামধন্য শতবর্ষ প্রাচীন পুরসভায় চাঞ্চল্য! খাতা ঘেঁটে পুরপ্রশাসকের চোখ ছানাবড়া — তালিকায় ১,০০০ কর্মীর নাম, অথচ মাঠে কাজে মাত্র ৩৫০ জন। কোথায় বাকি ৬৫০ কর্মী? পুরসভায় ‘ভূতুড়ে’ কর্মী ও বেতন কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমেছেন পুরপ্রশাসক।

author-image
Mousumi Das Patra
New Update
Krishnanagar Municipality, fake staff, ghost employees, Shardwati Chowdhury, municipal corruption, West Bengal news, TMC politics, civic services, sanitation workers, salary scam, Bengal administration, Krishnanagar Nagar Nigam, corruption in municipality,কৃষ্ণনগর পুরসভা, ভূতুড়ে কর্মী, ভুয়ো কর্মচারী, শারদ্বতী চৌধুরী, পুরসভা দুর্নীতি, তৃণমূল কংগ্রেস, পুর পরিষেবা, জঞ্জাল সাফাই, বেতন কেলেঙ্কারি, পশ্চিমবঙ্গ সংবাদ, কৃষ্ণনগর খবর, পুরপ্রশাসক, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান

civic services: পুর এলাকায় আবর্জনা সরানোর কাজের তদারকিতে ব্যস্ত পুর প্রশাসক।

corruption in municipality: কৃষ্ণনগর পুরসভার খাতা ঘাঁটতেই চোখ ছানাবড়া পুরপ্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরীর। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী পুরসভার কর্মী প্রায় এক হাজার, কিন্তু মাঠে নেমে দেখা গেল— কাজ করছেন মাত্র তিনশোর কিছু বেশি কর্মী। বাকিরা গেলেন কই? তাঁদের আর হদিশ নেই। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে বাকি প্রায় ৬৫০ জন কর্মী কোথায়?

Advertisment

গত দু’বছরের বেশি সময় ধরে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে চলছিল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত কৃষ্ণনগর পুরসভা। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে রাজ্য সরকার পুরসভার দায়িত্ব দেয় কৃষ্ণনগর সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরীকে। দায়িত্ব নিয়েই মহকুমাশাসক ঝাঁপিয়ে পড়েছেন পুরসভার কাজে— কখনও টোটো, কখনও গাড়িতে চড়ে পুর এলাকার জঞ্জাল ও পরিষেবার বাস্তব চিত্র ঘুরে দেখছেন তিনি। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সাফাই কর্মীদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন মহকুমাশাসক।

আরও পড়ুন- google search:খবরদার! ভুলেও গুগলে এই বিষয়গুলো সার্চ করবেন না, গ্রেফতার হতে পারেন!

Advertisment

শারদ্বতী চৌধুরীর কথায়, “আমাকে সরকার দায়িত্ব দিয়েছে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের। জল, আলো, জঞ্জাল, বিল্ডিং প্ল্যান, ট্রেড লাইসেন্স— সব পরিষেবা চালু করতে হবে। স্টাফদের প্রাথমিক তালিকায় প্রায় এক হাজার নাম আছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ করছে অনেক কম স্টাফ। কারা সত্যিই মাঠে কাজ করছে, কারা শুধু নামেই কর্মী— সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্থায়ী সাফাই কর্মী আছেন প্রায় ১০০ জন, নির্মলবন্ধু ২২০ জন এবং নির্মলসাথী ৫১ জন। এছাড়া আরও প্রায় ৩০০ জন সাফাই কর্মী আছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কর্মীদের দৈনিক মজুরি ৩১৪ টাকা, এবং ১০ বছরের কম অভিজ্ঞ কর্মীদের ২৯৭ টাকা।

আরও পড়ুন-Suvendu Adhikari: 'আপনারাও তৈরি থাকুন', মুকুলের বিধায়ক পদ যেতেই তৃণমূলের তাবড় বিধায়কদের নাম নিয়ে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

তবে অভিযোগ, বেশ কিছু ক্যাজুয়াল স্টাফের কোনও নথিপত্রই নেই। কবে কাজ শুরু, কখন বন্ধ— কিছুই নথিভুক্ত নয়। অথচ মাস শেষে সবাই নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন! এই ‘নামেই কর্মী’দের ছত্রছায়ায় রয়েছেন কারা, সেই প্রশ্নও ঘুরছে প্রশাসনিক মহলে।

তৃণমূল পরিচালিত কৃষ্ণনগর মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি রাজকিশোর দাস বলেন, “আমরা প্রশাসক ম্যাডামকে জানিয়েছি— হরিজন সম্প্রদায়ের সাফাই কর্মী, নির্মলবন্ধু ও নির্মলসাথী মিলে মোট ৩৭০ জন কাজ করেন। বাকিরা আসলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ক্যাজুয়াল স্টাফ। কাজ না করেই টাকা নিচ্ছে।”

বিষয়টি স্বীকার করেছেন পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল জেলা সাধারণ সম্পাদক মলয় দত্তও। তিনি বলেন, “বাড়তি লোক বসিয়ে পুরসভার টাকা নষ্ট করা যাবে না। আমরা আগেও কিছু নাম বাদ দিয়েছিলাম। বাড়তি বা ভুয়ো নাম থাকলে এবারও বাদ দেওয়া হোক।”

আরও পড়ুন-West Bengal News Live Updates: মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজ, বিরাট নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর পুরসভায় এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তদন্তে নেমেছিল সিবিআই। এবার পুরপ্রশাসকের নজরে এসেছে আরেক দীর্ঘদিনের অভিযোগ— কাজ না করেও বেতন তোলা ‘ভূতুড়ে কর্মী’-দের চক্র।

শারদ্বতী চৌধুরীর কড়া বার্তা, “যারা মাঠে কাজ করছেন, তাদেরই রাখা হবে। সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। পুর এলাকা ঝকঝকে করা আমাদের অগ্রাধিকার। মানুষের কাছে পরিষেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।”

Nadia Scam west bengal latest news Krishnanagar Municipality Nadia district news fake staff