/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/07/mahua-2025-07-07-11-03-56.jpg)
Mahua Moitra: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।
কৃষ্ণনগর পুরসভার ( Krishnanagar Municipality ) আর্থিক সঙ্কট ও অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে দল ও সরকারের শীর্ষস্তরের সম্মতি রয়েছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। পুরসভার দেউলিয়া পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি জানান, এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। একই সঙ্গে যাঁরা অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে দল বা সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগর পুরসভায় ‘ভূতুড়ে কর্মী’ চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দফায় দফায় সাড়ে ৩০০-র বেশি অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এই ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে চাকরিচ্যুত কর্মীরা আন্দোলনে নেমেছেন। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পুনর্বহালের প্রশ্নে অনড় অবস্থান নিয়েছেন পুরপ্রশাসক।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেলে কৃষ্ণনগর জেলা পরিষদের কক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মহুয়া মৈত্র বলেন, “কৃষ্ণনগর পুরসভা পুরোপুরি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে আমাদের ৯৭১ জন কর্মী রয়েছে। এতে বছরে প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। আশা করছি, এর ফলে স্বাভাবিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
জানা গিয়েছে, ভূতুড়ে কর্মী চিহ্নিতকরণের দ্বিতীয় দফায় প্রায় ২৫০ জন অস্থায়ী কর্মীকে ছাঁটাই করেন পুরপ্রশাসক। এর আগে প্রথম দফায় ১০৬ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। পুরসভার কোষাগারের দুরবস্থার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে কৃষ্ণনগর পুরসভার গেটের সামনে বিক্ষোভে বসেছেন ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা।
ভোটের মুখে বঙ্গ BJP-র মাস্টারস্ট্রোক! সংগঠনে বিরাট রদবদল! বড় দায়িত্বে সৌমিত্র, আর কারা কোন পদে?
উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী কৃষ্ণনগর পুরসভার পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব নেন। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পুরপরিষেবা ভেঙে পড়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন নাগরিকরা। দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরপ্রশাসক কর্মীদের ‘ওয়ার্ক কালচার’ বদলানোর উদ্যোগ নিলেও গত ১০ মাসের বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হওয়ায় পুরসভার আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। ফলে কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়ে চরম সঙ্কটে পড়ে পুরকর্তৃপক্ষ।
অস্থায়ী কর্মী ছাঁটাই প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্র আরও জানান, ৬৭১ জন অস্থায়ী এবং ৫৯ জন নন-ইপিএফ অস্থায়ী কর্মীর জন্য মোট ৭৩০ জনের বেতন বাবদ মাসে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা খরচ হত। এর পাশাপাশি ২৯১ জন স্থায়ী কর্মীর বেতন বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা এবং পেনশন বাবদ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বোঝা রয়েছে। এই অবস্থায় ছাঁটাই ছাড়া বিকল্প ছিল না বলেই তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, “২৫টি ওয়ার্ডের প্রায় ২ লক্ষ মানুষের জন্য ৯০০ থেকে ৯৩০ জন কর্মী যথেষ্ট। এতে ভালো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
পুরসভাকে দেউলিয়া করার জন্য দায়ী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দল বা সরকার কোনও ব্যবস্থা নেবে কি? এই প্রশ্নের জবাবে মহুয়া মৈত্র বলেন, সরকার যে কোনও সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “দেখতেই পাচ্ছেন, একজন মহকুমাশাসক পুরপ্রশাসকের দায়িত্বে বসে কাজ করছেন। আগে যেখানে নির্বাচিত বোর্ড ছিল, সেখানে এখন প্রশাসক রয়েছেন। অর্থাৎ সরকার কিছু না কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছেই। ব্যবস্থা না নিলে আগের মতোই সব চলত।”
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us