/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/30/muni-2025-10-30-10-54-35.jpg)
Krishnanagar Municipality: কৃষ্ণনগর পুরসভা।
কৃষ্ণনগর পুর এলাকার নাগরিকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘদিনের জটিলতা কাটিয়ে এবার জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আর গুণতে হবে না বাড়তি টাকা। পুর নাগরিকদের আর্থিক সুবিধার্থে একধাক্কায় কমানো হলো শংসাপত্রের আবেদন ও রেজিস্ট্রেশন ফি। পাশাপাশি সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে পুরনো নথির তথ্য খোঁজার বা 'সার্চিং' ফি। গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পুর এলাকায় নতুন এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
ফি কাঠামোয় বড় পরিবর্তন
পুরসভা সূত্রে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের আবেদনপত্র এবং রেজিস্ট্রেশনের ফি ১০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তি মিলেছে 'সার্চিং ফি'-র ক্ষেত্রে। আগে কোনো ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যু নথির তথ্য খুঁজতে গেলে প্রতি বছরের জন্য ২৫ টাকা করে ফি দিতে হতো। অর্থাৎ, কেউ যদি ১৯৮৫ সালের কোনো নথি খুঁজতে চাইতেন, তবে সেই সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বছর প্রতি ২৫ টাকা গুণ করে বিপুল অংকের টাকা জমা দিতে হতো। বর্তমান পুর বোর্ড এই 'সার্চিং ফি' সম্পূর্ণ তুলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন- Offbeat beaches: দীঘা-পুরীর দিন কি শেষ? কলকাতার কাছেই মিলল নীল জলের এক 'গোপন' স্বর্গরাজ্য!
তবে ম্যানুয়াল থেকে ডিজিটাল শংসাপত্র করার জন্য 'প্রসেসিং ফি' হিসেবে ৩০০ টাকা এবং ডুপ্লিকেট বা সংশোধনের ক্ষেত্রে (ডিজিটাইজেশন সহ) ৪৫০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই শতাব্দী প্রাচীন পুরসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘ সময় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল নাগরিক পরিষেবায়। মাস কয়েক আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরী পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণ করার সময় পুরসভার কোষাগারের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল এবং কর্মীদের বেতন দেওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামলে তিনি পুরসভার কাজের ধারায় গতি ফিরিয়েছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গত ৫ মাসে পুরসভায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের আবেদন জমা পড়েছিল। পুরপ্রশাসকের তৎপরতায় সেই সমস্ত বকেয়া কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ডিজিটাল সার্টিফিকেটের জন্য অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন-এসআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা, পুরনো ভোটার তালিকায় নির্বাচন চেয়ে পিটিশন
এই জনমুখী সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, "জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র পাওয়া এবং তার ধার্য মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। আমরা সেই বিষয়টি বিবেচনা করে ফি কমিয়ে দিয়েছি। তথ্য খোঁজার ফি-ও সম্পূর্ণ মুকুব করা হয়েছে। গত ৫ মাসে জমা পড়া সাড়ে ছ'হাজার শংসাপত্রের কাজ আমরা ইতিমধ্যই শেষ করেছি।"
পুর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে স্বভাবতই খুশি কৃষ্ণনগরের সাধারণ মানুষ। জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহে এই ছাড় নাগরিকদের অনেকটাই স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us