/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/30/muni-2025-10-30-10-54-35.jpg)
শতাব্দী প্রাচীন পুরসভায় কর্মী ছাঁটাই।
কৃষ্ণনগর পুরসভার(Krishnanagar Municipality) কর্মী ছাঁটাই ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পুনর্বহালের দাবিতে অনড় অবস্থানেই থাকলেন পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী। সোমবার ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের আন্দোলন পঞ্চম দিনে পড়ল। এদিন সকালে কৃষ্ণনগর পুরসভার মূল গেট খুলে দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা পুরসভার কর্মীদের ভেতরে প্রবেশ করতে দিলেও নিজেরা গেটের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস-সহ পুলিশের একটি দল। যদিও এদিন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
পুনর্বহালের প্রশ্নে পুরপ্রশাসক শারদ্বতী চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এই বিষয়ে এখনও কোনও আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে যদি নতুন করে কর্মী নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনেই করা হবে।”
আরও পড়ুন- West Bengal news live updates: SIR-এর নামে হেনস্থার অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে মামলা তৃণমূলের
প্রসঙ্গত, কৃষ্ণনগর পুরসভায় ‘ভূতুড়ে কর্মী’ চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২৫০ জন ক্যাজুয়াল কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। এর আগে কোষাগারের বেহাল অবস্থার কারণে প্রথম ধাপে ১০৬ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা পুরসভার গেটের সামনে ধর্নায় বসেন।(Municipal workers protest) এক সময় পুরসভার গেট বন্ধ করে আন্দোলন করায় শহরজুড়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়।
সার্ধশতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া কৃষ্ণনগর পুরসভা দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস( tmc) পরিচালিত এই পুরসভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হওয়ায় পুরপরিষেবা ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ নাগরিকদের। এই পরিস্থিতিতে মাসখানেক আগে সদর মহকুমাশাসক শারদ্বতী চৌধুরীকে পুরপ্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি পুরকর্মীদের ‘ওয়ার্ক কালচার’ বদলানোর উদ্যোগ নেন। তবে গত ১০ মাসের বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায় কার্যত বন্ধ থাকায় কোষাগারের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সঞ্চিত অর্থ থেকেই কর্মীদের বেতন দিতে হয়েছে বলে জানা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৭ নভেম্বর পুরপ্রশাসক একটি নির্দেশ জারি করেন, ছুটির দিনে কাজ করলে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হবে না বরং মজুরির ভিত্তিতে কাজ হবে। ওই নির্দেশে ২০১৯ সালের ১৩ আগস্ট নগরোন্নয়ন দপ্তরের একটি নির্দেশিকার উল্লেখ ছিল, যেখানে দপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অভিযোগ, সেই নির্দেশ অমান্য করেই অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।
মোট কত কর্মী ছাঁটাই?
এই পরিস্থিতিতে প্রথমে ১০৬ জন এবং পরে ২৫০ জন কর্মী ছাঁটাই করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ স্তরের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তথ্যভিজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ জড়িত থাকতে পারে।
আরও পড়ুন-Vande Bharat: নতুন বছরে বড় উপহার রেলের, বাংলায় এল দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন, রুট জানেন?
প্রশাসন সিদ্ধান্তে অনড়
সোমবার সকাল ও দুপুরে পুরপ্রশাসক পুরসভায় এসে দফায় দফায় কাজ করলেও ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান। তাঁদের স্লোগান ছিল একটাই, “পুনর্বহাল করতে হবে, আমাদের দাবি মানতে হবে।” তবে আপাতত পুনর্বহালের বিষয়ে কোনও নরম অবস্থান নিচ্ছে না পুর প্রশাসন, ফলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us