/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/15/sikkim-2026-01-15-18-01-47.jpg)
Lingtam Sikkim: এই ছবিটি AI প্রযুক্তি দ্বারা তৈরি।
Sikkim Travel: সিকিমের অফবিট পর্যটন মানচিত্রে বর্তমানে এক উজ্জ্বল নাম লিংটাম। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি যেন এক টুকরো স্বর্গ। মূলত সিল্ক রুট বা রেশম পথের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লিংটাম তার নির্জনতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরির জন্য পর্যটকদের কাছে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ
লিংটাম গ্রামটি মূলত পাহাড়ি নদী 'বাখু খোলা'-র তীরে অবস্থিত। চারিদিকে ঘন সবুজ বনভূমি এবং মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া পাথুরে নদীর কলকল শব্দে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয়। পর্যটনের কোলাহল থেকে দূরে শান্তিতে দুটো দিন কাটানোর জন্য এটি আদর্শ জায়গা। বসন্তকালে এখানে রডোডেনড্রন এবং বিভিন্ন বন্য ফুলের সমারোহ দেখা যায়, আর বর্ষায় পুরো গ্রামটি সতেজ সবুজে ঢেকে থাকে।
কী কী দেখবেন?
লিংটামকে কেন্দ্র করে আশেপাশের বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়। যেমন, লিংটাম মনাস্ট্রি- গ্রামের ভেতরেই অবস্থিত এই বৌদ্ধ মঠটি অত্যন্ত শান্ত এবং পবিত্র। তিব্বতি স্থাপত্যের এই মঠটি ভ্রমণার্থীদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
পাহাড়ি নদী ও জলপ্রপাত- বাখু খোলার পাড়ে বসে সময় কাটানো বা পাহাড়ি ঝরনার শীতল জল উপভোগ করা লিংটামের অন্যতম আকর্ষণ।
আরও পড়ুন- Suntalikhola: কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টায় অভূতপূর্ব এক ‘নির্জনতার রাজ্য’! চেনেন সুন্দরী সুনতালীখোলা?
কুইখলা জলপ্রপাত- লিংটাম থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত এই সুন্দর জলপ্রপাতটি পর্যটকদের নজর কাড়ে।
সিল্ক রুটের প্রবেশদ্বার
লিংটামকে সিল্ক রুটের বেস ক্যাম্প বা প্রবেশদ্বার বলা হয়। পর্যটকরা এখানে এক রাত কাটিয়ে উচ্চতার সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে (Acclimatization) নিতে পারেন। এখান থেকেই যাত্রা শুরু হয় পদমচেন, জুলুক, নাথাং ভ্যালি এবং বিখ্যাত ওল্ড বাবা মন্দিরের দিকে। ফলে যারা সিল্ক রুট ভ্রমণে বের হন, তাদের কাছে লিংটাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিরতিস্থল।
আরও পড়ুন- Chungthang: সিকিমের হৃদয়ে এক লুকোনো রত্ন চংথাং! আধুনিকতার ছোঁয়া ছাড়া চিনুন পাহাড়ি জীবন
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা
লিংটামে বড় কোনো হোটেল নেই, তবে অত্যন্ত উন্নত মানের বেশ কিছু হোমস্টে গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের আতিথেয়তা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানকার হোমস্টেগুলোতে ঘরের তৈরি টাটকা পাহাড়ি খাবার—যেমন স্কোয়াশের তরকারি, লোকাল চিকেন এবং গরম গরম মোমো পাওয়া যায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে সাজানো ছোট ছোট কাঠের ঘরগুলো থেকে মেঘেদের যাতায়াত দেখার অভিজ্ঞতা এক কথায় অতুলনীয়।
কীভাবে যাবেন?
নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) বা শিলিগুড়ি থেকে লিংটাম যাওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। দূরত্ব প্রায় ১২৫ কিলোমিটার, যা পৌঁছাতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। কালিম্পং বা রংপো হয়ে লিংটাম পৌঁছানো যায়। মনে রাখবেন, পূর্ব সিকিমের এই অংশটি সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় রংপো বা রংলি থেকে প্রয়োজনীয় পারমিট করিয়ে নিতে হয়।
ভ্রমণের সেরা সময়
মার্চ থেকে মে মাস এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাস লিংটাম ভ্রমণের সেরা সময়। শীতকালে তাপমাত্রা বেশ কমে যায়, তবে চারপাশের দৃশ্য পরিষ্কার থাকে। যারা নির্জনতা পছন্দ করেন, তারা বর্ষার ঠিক পরেই সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আসতে পারেন, যখন প্রকৃতি সবচেয়ে সুন্দর সাজে থাকে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us