/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/15/arup-2025-12-15-16-13-28.jpg)
Salt Lake Stadium chaos: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে মেসির সঙ্গে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তোলা সেই ছবি।
Lionel Messi Kolkata visit: সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ‘গোট ট্যুর’ শুরু হতেই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের সাক্ষী থাকল কলকাতা। প্রথমে দর্শকদের উচ্ছ্বাস থাকলেও অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই তা রূপ নেয় চরম ক্ষোভ ও ধ্বংসযজ্ঞে। গত শনিবার সল্টলেকের স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারির দিকে উড়ে আসে বোতল, খাবারের প্যাকেট। ছিঁড়ে ফেলা হয় ফাইবারের আসন, সেগুলি মাঠের মধ্যে ছুড়ে মারা হয়। ভাঙচুর করা হয় গেট, খেলোয়াড়দের টানেলের ছাদে চালানো হয় হাতুড়ির আঘাত। ছিঁড়ে ফেলা হয় পোস্টার ও হোর্ডিং।
এমনকী মেসি ও মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তৈরি দু’টি ক্যানোপি ভেঙে দেওয়া হয় এবং কয়েক জায়গায় আগুন ধরানোর চেষ্টাও চলে, পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সেই সময়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশকর্মীদেরও নাজেহাল পরিস্থিতি হয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেসি স্টেডিয়ামের শুধুমাত্র এক দিকের দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে দ্রুত মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার পরেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দর্শকদের একাংশের দাবি, তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এরপরই শুরু হয় বোতল ও বিভিন্ন সামগ্রী ছোড়াছুড়ি। অভিযোগ, তখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার দর্শকের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং আয়োজকরা ইতিমধ্যেই মাঠ ছেড়ে চলে যান।
আরও পড়ুন- West Bengal news live Updates: রক্তাক্ত প্রতিশোধ! ভাইকে খুনের বদলা নিতে অভিযুক্তকে কুপিয়ে খুন দাদা
এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভিআইপি হস্তক্ষেপ। অভিযোগ, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিরাপত্তা নির্দেশ উপেক্ষা করে মেসির একেবারে কাছে পৌঁছে যান। প্রায় ১০০ জন মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেন, যার ফলে স্টেডিয়ামের বাকি দর্শকরা তাঁকে স্পষ্টভাবে দেখতে পাননি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এনএসজি-র প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ড্যান্ট দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। ২০১১ সালে কলকাতায় মেসির নিরাপত্তা ব্যবস্থার নকশা তৈরি করেছিলেন তিনিই। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “কেউ কীভাবে মেসির গায়ে হাত দিতে পারে? এমনকি শুনেছি কলম দিয়ে আঁচড় দেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও কড়া মন্তব্য করে বলেন, ভিআইপি হস্তক্ষেপ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
২০১১ সালের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দীপাঞ্জন চক্রবর্তী জানান, সেই সময় স্টেডিয়ামের ভিতরে তাঁর কর্তৃত্ব ছিল সম্পূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রীও তাঁর পরিকল্পনায় হস্তক্ষেপ করতে পারেননি। মাঠে প্রবেশাধিকার ছিল অত্যন্ত সীমিত, শুধুমাত্র খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদেরই অনুমতি ছিল। কোনও বিক্রেতাকেও স্টেডিয়ামের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, এবারের আয়োজন পরিকল্পনা, প্রোটোকল এবং কর্তৃত্ব, তিন ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় বিষয় রাজ্যের সম্মান ও মর্যাদা, যা এই ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন-মেসির সঙ্গে ছবি শুভশ্রীর, তারপরই ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়, ট্রোল আর কুৎসার বিরুদ্ধে থানায় রাজ
এদিকে, স্টেডিয়ামে কর্মরত এক মহিলা পুলিশকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না। বহু ব্লকে মাত্র ২০ জন করে পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন, যার মধ্যে কনস্টেবলও ছিলেন না। দর্শকরা হিংস্র হয়ে উঠলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুম্বইয়ে মেসির অনুষ্ঠানে প্রায় ২,০০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় কলকাতায় এত বড় আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা নিয়েই উঠছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই ব্যর্থতার ফলেই মাঠে অনুপ্রবেশ, আসন ভাঙচুর, জাল ছেঁড়া এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us