Madhav Gadgil Passed Away: হার্ভার্ড থেকে হিমালয় পর্যন্ত ছিল অবাধ বিচরণ, কে ছিলেন মাধব গাডগিল? মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশ

Madhav Gadgil Passed Away: বুধবার রাতে পুনেতে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গাডগিল। তাঁর প্রয়াণে দেশের পরিবেশ ও বিজ্ঞান মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Madhav Gadgil Passed Away: বুধবার রাতে পুনেতে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গাডগিল। তাঁর প্রয়াণে দেশের পরিবেশ ও বিজ্ঞান মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

author-image
IE Bangla Web Desk
আপডেট করা হয়েছে
New Update
Madhav Gadgil death, veteran environmentalist Gadgil, Gadgil report 2011, Western Ghats conservation, Indian environmentalist, Madhav Gadgil passes away, Gadgil committee, Western Ghats ecology, UNEP Champion of the Earth, Indian green movement

মাধব গাডগিলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশ

Madhav Gadgil Passed Away: প্রয়াত পরিবেশবিদ মাধব গডগিল। বুধবার রাতে পুনেতে ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গাডগিল। তাঁর প্রয়াণে দেশের পরিবেশ ও বিজ্ঞান মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Advertisment

Murshidabad News: মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের বাস্তব রূপ! ভিনরাজ্যে খুন হওয়া শ্রমিকের মায়ের হাতে সরকারি চাকরি

মাধব গাডগিল ছিলেন পশ্চিমঘাট পরিবেশ বিশেষজ্ঞ প্যানেলের (WGEEP) সভাপতি, যা সাধারণত ‘গাডগিল কমিশন’ নামেই পরিচিত। পশ্চিমঘাটের পরিবেশগত সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে এই কমিশনের রিপোর্ট ভারতীয় পরিবেশ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। যদিও ওই রিপোর্টের কিছু সুপারিশকে অত্যন্ত কঠোর বলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

১৯৪২ সালে জন্ম নেওয়া মাধব গাডগিল বোম্বে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীববিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। দীর্ঘদিন তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে (IISc) অধ্যাপনা করেন। গবেষক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর অবদান যেমন উল্লেখযোগ্য, তেমনই ভারতের পরিবেশ আন্দোলনকে সংগঠিত ও দিশা দেখানোর ক্ষেত্রেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

২০১০ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রকের উদ্যোগে তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় পশ্চিমঘাট পরিবেশ বিশেষজ্ঞ প্যানেল। ২০১১ সালে জমা দেওয়া ওই রিপোর্টে খনন ও ভারী শিল্পে নিয়ন্ত্রণ, বাঁধ নির্মাণে বিধিনিষেধ এবং বন ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণের মতো একাধিক সুপারিশ করা হয়। পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে গাডগিল বারবারই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।

মাধব গাডগিলের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, গাডগিল ছিলেন এক অসাধারণ বিজ্ঞানী, প্রতিষ্ঠান নির্মাতা ও দেশগঠক। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রথাগত জ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন, বস্তারের অরণ্য সংরক্ষণ এবং পশ্চিমঘাট সংরক্ষণ সংক্রান্ত রিপোর্টে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

'মেসির চেয়েও ভালো ড্রিবলিং জানেন মুখ্যমন্ত্রী',SIR ইস্যুতে মমতাকে নিশানা শমীকের

পরিবেশ সংরক্ষণে আজীবন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মাধব গাডগিল বহু সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত হন। এর মধ্যে ২০১৫ সালে প্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ‘টাইলার পুরস্কার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় পরিবেশ আন্দোলনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের পরিবেশ আন্দোলনে তাঁর অবদান চিরকাল স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

মাধব গাডগিল ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে (IISc) তিনি সেন্টার ফর ইকোলজিক্যাল সায়েন্সেস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ভারতের জীববৈচিত্র্য আইন তৈরির প্রক্রিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) তাঁকে ‘চ্যাম্পিয়ন অফ দ্য আর্থ’ সম্মানে ভূষিত করে। UNEP তাঁকে ‘জনগণের বিজ্ঞানী’ হিসেবে আখ্যা দেয়, যিনি গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

প্রবীণ পরিবেশবিদ মাধব গাডগিল তাঁর যুগান্তকারী "গাডগিল রিপোর্ট" (২০১১) এর জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমঘাটের সংবেদনশীল অঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ঘটবে। তার এই সতর্কবার্তার বাস্তবতার প্রমাণ মিলেছে ২০২৪ সালে কেরালার ওয়ানাডে, যেখানে এক বিশাল ভূমিধসে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু বছর আগে গাডগিল পশ্চিমঘাটের ওই অংশকে “পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল” ঘোষণা করার সুপারিশ করেছিলেন, যা তখন সরকারের পক্ষ থেকে “উন্নয়নবিরোধী” হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন- জমে যাচ্ছে বাংলা! সর্বকালীন রেকর্ড ভাঙার মুখে এবারের শীত? শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা কোন কোন জেলায়?