/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/madhyamik-math-exam-last-minute-preparation-tips-2026-01-14-20-08-30.jpg)
সহজ শর্ট কার্ট, নিয়মিত অনুশীলনেই বাজিমাত
সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক কাজ করে, তা হল অঙ্ক। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন–রাত এক করে অনুশীলন চালাচ্ছে পড়ুয়ারা। অনেকের মনেই আশঙ্কা, শেষ দু’মাস পড়ে ভালো নম্বর তোলা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষকদের মতে, সঠিক পদ্ধতি, কিছু কার্যকর শর্টকাট এবং নিয়মিত অনুশীলন থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই অঙ্কে ভালো ফল করা সম্ভব।
শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, মাধ্যমিক অঙ্কের সিলেবাসে মূলত পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি ও রাশিবিজ্ঞান এই বিষয়গুলির উপর জোর দিতে হবে। পাটিগণিতে সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধি সুদের অঙ্ক ভালোভাবে অনুশীলন করা জরুরি। পাশাপাশি অংশীদারি কারবার এবং লাভ-ক্ষতির অঙ্কগুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিমিতির ক্ষেত্রে শঙ্কু থেকে অঙ্ক আসার সম্ভাবনা কম থাকলেও, আয়তঘন ও চোঙ সংক্রান্ত অঙ্ক গুরুত্ব সহকারে অনুশীলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্ধগোলকের সব ধরনের অঙ্কও প্র্যাকটিসে রাখতে হবে। ত্রিকোণমিতিতে উচ্চতা ও দূরত্ব সংক্রান্ত অঙ্কগুলি বাদ দেওয়া যাবে না। জ্যামিতির ক্ষেত্রে বৃত্ত সংক্রান্ত উপপাদ্য বিশেষ করে ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর উপপাদ্য, সদৃশ ত্রিভুজ, বৃত্তের স্পর্শক এবং ক্ষেত্রফল সংক্রান্ত সম্পাদ্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন শিক্ষকেরা।
রাশিবিজ্ঞানের মধ্যে সংখ্যাগুণমান ও গড় নির্ণয়ের অঙ্ক ভালোভাবে অনুশীলন করা অত্যন্ত জরুরি। বীজগণিতে যোগ-বিয়োগ, ভেদ ধ্রুবক এবং দ্বিঘাত সমীকরণের সমস্যাগুলি পরিষ্কারভাবে বুঝে সমাধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এমসিকিউ, শূন্যস্থান পূরণ এবং সত্য-মিথ্যা প্রশ্নের জন্যও আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
আরও পড়ুন- জড়তা, ভয় কাটিয়ে মাধ্যমিকে ইংরাজিতে ফাটাফাটি নম্বর চাই? মানতেই হবে এই সিক্রেট টিপস!
পরীক্ষায় সঠিক নম্বর পেতে হলে প্রতিটি অঙ্ক ধাপে ধাপে পরিষ্কারভাবে লিখে সমাধান করার উপর জোর দিয়েছেন শিক্ষকরা। উপপাদ্য ও সম্পাদ্য লেখার সময় যথাযথ ছবি আঁকা ও সঠিক নামকরণ না করলে নম্বর কাটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ত্রিকোণমিতি ও উচ্চতা-দূরত্ব সংক্রান্ত অঙ্কে সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র আঁকা বাধ্যতামূলক।
পরীক্ষার হলে প্রথমে এমসিকিউ এবং শূন্যস্থান বা সত্য-মিথ্যা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপর ২ ও ৩ নম্বরের প্রশ্নগুলি করা ভালো। ৫ নম্বরের প্রশ্নের ক্ষেত্রে উপপাদ্য ও সম্পাদ্য সঠিকভাবে চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। রাশিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত সূত্রগুলি মুখস্থ রাখা ও নিয়মিত প্র্যাকটিস করাও জরুরি বলে মত শিক্ষকদের।
পরীক্ষার আগে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় দিন শরীর ও মন সুস্থ রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অঙ্কের হিসাবের ভুল এড়াতে শান্ত মাথায় সমাধান করা এবং সময় থাকলে ক্রসচেক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্রে প্রশ্নগুলির উত্তর অবশ্যই ক্রমানুসারে লিখতে হবে এবং প্রয়োজনে রাফ ওয়ার্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। শিক্ষকদের মতে, প্রথম ৪০ শতাংশ প্রশ্ন নির্ভুলভাবে করতে পারলে পরবর্তী সময়ে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে মাধ্যমিক অঙ্ক পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলির উপর নিয়মিত অনুশীলন, সূত্র মুখস্থ রাখা, সঠিক ছবি ও নামকরণ, ধাপে ধাপে উত্তর লেখা এবং শেষ মুহূর্তে খাতার রিভিশন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝারি মানের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে আগে যেসব অঙ্ক ভালো আসে, সেগুলি আগে করলে নম্বর তোলার সম্ভাবনা বাড়ে। সরকারি পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন ও সমস্ত অঙ্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অভ্যাস করা প্রশ্নপত্র ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করার অভ্যাস গড়ে তুললে পরীক্ষার দিনে আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে। মন শান্ত রেখে, মাথা ঠান্ডা রেখে এবং নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নিলে অঙ্কে ভালো ফল পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা এমনটাই মত শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us