/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/16/mahakal-mahatirtha-shilanyas-mamata-banerjee-siliguri-jan-2026-2026-01-16-20-27-25.jpg)
বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মন্দির!
শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata)। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার চলছে। তাঁর দাবি, অসম, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি কিংবা বিহারে বাংলাভাষী শ্রমিকদের মারধর করা হচ্ছে। মমতার কড়া মন্তব্য, “মানুষকে পেটানো ধর্ম নয়। জীবন দেওয়াই ধর্ম। যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন ভাল কাজ করে যেতে হবে।” উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর।
মারকাটারি মেজাজে শীত! এবার কি ঝটপট বিদায়? জানুন হাওয়া অফিসের বড় আপডেট
প্রায় ১৮ একর জমিতে নির্মিত হতে চলা এই মহাকাল মন্দিরটি উজ্জয়নের শ্রী মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের আদলে তৈরি হবে (Mahakal Temple)। শিলান্যাস অনুষ্ঠানে সাধু-সন্তদের উপস্থিতিতেও ধর্ম ও মানবতার বার্তাকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ তীর্থযাত্রী মহাকাল মন্দিরে আসতে পারবেন বলেও জানান তিনি। মূল মন্দিরের পাশাপাশি বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি নির্মাণের কথাও জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মন্দির চত্বরে একটি আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের অন্যান্য ধর্মীয় ও পর্যটন প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দীঘায় ৩০ একর জমির উপর জগন্নাথ ধাম নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে ইতিমধ্যেই ১.৩০ কোটির বেশি পুণ্যার্থী দর্শন করেছেন। নিউটাউনে ১৭.৮ একর জমিতে নির্মীয়মাণ দুর্গা অঙ্গন অদূর ভবিষ্যতে একটি বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি জানান।
গঙ্গাসাগর মেলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর সেখানে ১.৩০ কোটি পুণ্যার্থী এসেছিলেন এবং তাঁদের থাকা-খাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা রাজ্য সরকার করেছে। গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণে ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এল অ্যান্ড টি সেই সেতু নির্মাণ করছে। তাঁর আশা, আগামী দুই বছরের মধ্যে সেতু তৈরি হয়ে গেলে পুণ্যার্থীদের জলপথ পারাপারের কষ্ট অনেকটাই কমবে।
কোচবিহার ও নবদ্বীপকে হেরিটেজ টাউন হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে এবং ইসকনকে ৭০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানের উন্নয়নের পাশাপাশি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন এবং জয়রামবাটি-কামারপুকুর উন্নয়ন পর্ষদে আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ধর্মীয় সহাবস্থানের বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একটি ধর্ম বা একটি রঙে সমাজ চলে না। যেমন একটি গানের জন্য অনেক বাদ্যযন্ত্র লাগে, তেমনই সমাজের জন্য বৈচিত্র্য দরকার। ধর্ম মানে পবিত্রতা, মানবতা ও একতা।”
'বিজেপির লোকেরা ERO অফিসে গেলে DJ শোনানোর দাওয়াই'
তবে এই মন্দির নির্মাণ ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ ও দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র রাজু বিস্তা শিলিগুড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ তোলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে মন্দির নির্মাণের কথা বলা হলেও পুরো অনুষ্ঠানই সরকারি ব্যানারে আয়োজন করা হচ্ছে।
শিলান্যাসের পর ভাষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার চলছে, তারপরও বিজেপি কীভাবে ভাবছে যে তারা বাংলার মানুষের সমর্থন পাবে। তাঁর কটাক্ষ, “একটা বেহায়া দল।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছে। “নিজেদের শক্তিতে জিততে পারে না বলেই ষড়যন্ত্র করছে। লুট করে, মিথ্যে বলে,” বলেন মমতা।
অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শান্ত থাকার আবেদন জানান। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার সবসময় তাদের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে SIR প্রসঙ্গে মমতার অভিযোগ, মতুয়া, রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মালদায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর প্রশ্ন, “এভাবে নাম কাটা হলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”
মৌনী অমাবস্যায় বিশেষ পদ্ধতি শনি-রাহু-কেতুর দোষ থেকে মুক্তি!জানুন শুভ সময়, নিশ্চিত প্রতিকার
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ বদলাচ্ছে, চাপের মুখে পড়ে বিএলও-রা সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর দাবি, SIR প্রক্রিয়ার জেরে ১০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে বলেন, “পদের মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করুন, তাহলেই মানুষ আপনাদের সম্মান করবে।”
উল্লেখ্য গত ৩০ ডিসেম্বর কলকাতার নিউ টাউনে ‘দুর্গা আঙ্গন’ নামে দেশের সবচেয়ে বড় দুর্গা মন্দির ও সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের শিলান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ১৫ একর জমিতে তৈরি হতে চলা এই মন্দিরে প্রতিদিন প্রায় এক লক্ষ ভক্তের সমাগম হবে বলে জানানো হয়েছে। সেই অনুষ্ঠান থেকে তুষ্টিকরণের অভিযোগের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তিনি ধর্মনিরপেক্ষ এবং সব ধর্মে বিশ্বাসী।
এর আগে, ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় টিএমসি থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদের আদলে নির্মিত হতে চলা একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।
এছাড়াও ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল পূর্ব দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ২০ একর জমিতে নির্মিত এই মন্দিরটি পুরীর ১২শ শতকের জগন্নাথ মন্দিরের আদলে তৈরি। উদ্বোধনের পর লেজার শো ও ডাইনামিক লাইট শো-এর আয়োজন করা হয়েছিল।
'আপনি তো দেবতাদেরও ছাড়ছেন না', মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের আগে মমতাকে তুলোধোনা শঙ্কর ঘোষের
সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে একদিকে ধর্মীয় বার্তা, অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us