valentine's day Love story: পোষ্যের সেবাতেই ব্রতী, ভালবাসা দিবসে চিরকুমারী থাকার অঙ্গিকার, দৃষ্টান্ত গড়লেন এই যুবতী

valentine's day Love story: রিকির পশুপ্রেমের সূত্রপাত শৈশবেই। তাঁর বাবা দ্বিজেন বড়ুয়া ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মী। হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে থাকাকালীন বাবাকে অসুস্থ পাখি উদ্ধার করে বাড়িতে এনে সেবা করতে দেখেই প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ জন্ম নেয় রিকির মনে।

valentine's day Love story: রিকির পশুপ্রেমের সূত্রপাত শৈশবেই। তাঁর বাবা দ্বিজেন বড়ুয়া ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মী। হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে থাকাকালীন বাবাকে অসুস্থ পাখি উদ্ধার করে বাড়িতে এনে সেবা করতে দেখেই প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ জন্ম নেয় রিকির মনে।

author-image
Sandip Sarkar
New Update
রিকি বড়ুয়া, মালবাজার খবর, পথ কুকুর সেবা, পশুপ্রেমী যুবতী, রেইকি হিলিং থেরাপি, অবলা প্রাণী উদ্ধার, মালবাজার প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্র, চিরকুমারী শপথ, প্রাণী কল্যাণ উদ্যোগ, পশ্চিমবঙ্গ মানবিক খবর

দৃষ্টান্ত গড়লেন এই যুবতী

valentine's day Love story: মহাভারতের মহাপ্রস্থান পর্বে পাণ্ডবদের স্বর্গযাত্রার সঙ্গী ছিল এক বিশ্বস্ত সারমেয়। সেই পৌরাণিক আখ্যান যেন একবিংশ শতাব্দীতে জীবন্ত রূপ পেয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার শহরে। অবলা প্রাণীদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছেন রিকি বড়ুয়া। পশুদের সেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে তিনি স্বেচ্ছায় চিরকুমারী থাকার শপথ নিয়েছেন। বর্তমানে ৩৮ বছর বয়সেও নিজের সেই সিদ্ধান্তে অটল এই যুবতী।

Advertisment

মহাশিবরাত্রির আগে স্বপ্নে এই জিনিসগুলি দেখলে মিলতে পারে শুভ সংকেত!

রিকির পশুপ্রেমের সূত্রপাত শৈশবেই। তাঁর বাবা দ্বিজেন বড়ুয়া ছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার কর্মী। হাসিমারা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে থাকাকালীন বাবাকে অসুস্থ পাখি উদ্ধার করে বাড়িতে এনে সেবা করতে দেখেই প্রাণীদের প্রতি মমত্ববোধ জন্ম নেয় রিকির মনে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম এক আহত পথকুকুরকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘ পথচলা। ২০০৮ সালে বাবার মৃত্যুের পর ২০১৩ সালে মালবাজারের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন রিকি। বর্তমানে মা গীতা বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর সংসারে আশ্রয় পেয়েছে ছয়টি সারমেয়।

রিকির সেবার ধরন অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি শুধু খাবার বা ওষুধ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না, প্রয়োজনে ‘রেইকি হিলিং থেরাপি’র মাধ্যমেও অসুস্থ প্রাণীদের সুস্থ করার চেষ্টা করেন। তাঁর আশ্রয়ে থাকা অধিকাংশ কুকুরই পথ দুর্ঘটনায় আহত বা মানুষের নির্যাতনের শিকার। কারও গায়ে গরম জল ঢালা হয়েছে, কেউ আবার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়েছে। টিউশন পড়িয়ে অর্জিত সামান্য উপার্জন দিয়েই তিনি চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যয় বহন করেন। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর প্রশিক্ষণে অনেক সারমেয়ই শাক-ভাত খেতেও অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

Advertisment

এই মানবিক উদ্যোগে সবসময় পাশে রয়েছেন তাঁর মা। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মেয়ের কাজে বাধা না দিয়ে বরং সাহস জোগান তিনি। এছাড়া মামী সুমিতা বড়ুয়া উদ্ধার করা বিড়ালদের চিকিৎসায় সাহায্য করেন। মালবাজার প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডাঃ বিধান সাহা দীর্ঘদিন ধরে রিকির উদ্ধার করা প্রাণীদের ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার দায়িত্ব পালন করছেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের একাংশও তাঁর এই উদ্যোগকে সম্মান জানিয়েছেন।

ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক রিকি বড়ুয়া শুধু নিজের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ নন। সরকারি টিকাকরণ শিবির ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতেও তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নিভৃতে কাজ করা এই যুবতীর একটাই আবেদন “পথকুকুরদের ভালো না বাসলেও ক্ষতি নেই, কিন্তু দয়া করে তাদের আঘাত করবেন না।” একাধিক বিবাহ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, মাতৃত্ব শুধু জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তা ভালোবাসা ও সেবার মধ্য দিয়েও প্রকাশ পেতে পারে।

দুর্ভাগ্য কাটিয়ে সুদিন আনবে হেঁশেলের সামান্য কিছু উপাদান, অর্থকষ্ট থেকে অনিদ্রা সব সমস্যায় মিলবে উপকার

West Bengal News love