Mamata Banerjee: কোন ফর্মূলায় নাম বাদ? কমিশনের বিরাট চক্রান্ত ফাঁস! 'বোমা' ফাটালেন মমতা

Mamata Banerjee:এদিনের জনসভা মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন এবং আদিবাসীদের বাদ্যযন্ত্র ধামসা, মাদল বাজান।

Mamata Banerjee:এদিনের জনসভা মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন এবং আদিবাসীদের বাদ্যযন্ত্র ধামসা, মাদল বাজান।

author-image
Madhumita Dey
New Update
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এসআইআর, মালদা গাজোল, জনসভা, বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার, ভোটার কার্ড, পরিযায়ী শ্রমিক, বন্যা ভাঙ্গন, মোবাইল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, লক্ষী ভান্ডার, কন্যাশ্রী, Mamata Banerjee, SIR, Malda Gazole, public meeting, BJP, central government, voter card, migrant workers, flood erosion, mobile health center, Lakshmi Bhandar, Kanyashree

কোন ফর্মূলায় নাম বাদ? কমিশনের বিরাট চক্রান্ত ফাঁস! 'বোমা' ফাটালেন মমতা

Mamata Banerjee: "সেনসাস থেকে এসআইআর এগুলি করতে সময় লাগে। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন ঘোষণা হয়ে যাবে। তার আগে এত তাড়াহুড়ো কেন বুঝতে পারছি না। আসলে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চালাকি করে বাংলায় এসআইআর করেছে। ওরা ভেবেছিল যেন তেন প্রকারে সরকার ফেলে দেবে। কিন্তু বলে রাখি এটা বিহার নয়, বাংলা। যতই কৌশল ও ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, মানুষ বিজেপির এই চালাকি ও ভেদাভেদের রাজনীতিতে নেই"। বুধবার দুপুরে মালদার গাজোলে এসআইআর চক্রান্তের বিরোধিতায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় তুলোধনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমি আজকে এখানে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি। শুধু এসআইআর প্রসঙ্গ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন বিষয় নেই এমনটাই জানাতে এসেছি। আপনারা চিন্তা করবেন না, এসআইআর নিয়ে ভয়ের কোন বিষয় নেই। আমি আছি আপনাদের পাহারা দেওয়ার জন্য"।

Advertisment

Meesho IPO–তে SBI Mutual Fundকে বড়সড় বরাদ্দ, সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ একাধিক বড় বিনিয়োগকারী

মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, "এসআইআর-এর ফর্ম ফিলাপ করে অবশ্যই হেয়ারিং-এ যাবেন। নইলে ওরা নাম কেটে দিতে পারে। আর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসার জন্য বলুন। নইলে আগামীতে ভোটার কার্ড নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে"।এদিনের জনসভা মঞ্চে উঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন এবং আদিবাসীদের বাদ্যযন্ত্র ধামসা, মাদল বাজান। যদিও এদিনের এই জনসভাস্থলে ২০ হাজারেরও বেশি দলের কর্মী ও সমর্থকদের সমাগম হয়েছিল বলে দাবি করেছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।

Advertisment

এদিন মালদার গাজোল কলেজ সংলগ্ন একটি খেলার মাঠে বাংলার ভোটাধিকার রক্ষার্থে এসআইআর চক্রান্তের বিরুদ্ধে জেলা তৃণমূলের ডাকে জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ হেলিকপ্টারে করে বহরমপুর থেকে মালদার গাজোলে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জনসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, তাজমুল হোসেন। এছাড়াও ছিলেন মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী সহ সহ দলীয় স্তরের একাধিক নেতা নেত্রীরা।

'সঞ্চার সাথী' অ্যাপ নিয়ে বিতর্ক চরমে! শেষমেষ কী বললেন যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া?

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, "একজন মানুষের নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও আবার তাকে নাগরিকের প্রমাণপত্র দিতে হচ্ছে। তাই আবারও বলছি, এসআইআর নিয়ে যখন হেয়ারিং হবে, অবশ্যই উপস্থিত থাকবেন। না গেলে নাম কেটে দিবে, এই চক্রান্তই ওরা চাইছে।" এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মালদার বন্যা ও ভাঙন নিয়ে আরও একবার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দায়ী করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা, ফুলহরসহ বিভিন্ন নদীর বন্যা ও ভাঙ্গন দীর্ঘদিনের সমস্যা। ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল, মালদা জেলায় ১৩ হাজার ২৫০ বিঘা কৃষি ও বসত জমি নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। ২১৮ টি গ্রাম‌ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে মানিকচক, রতুয়ার বেশিরভাগ অংশ রয়েছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদের বন্যা ভাঙন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অনেকদিন আগেই ১৫০ কোটি টাকার একটি কাজের প্রস্তাব কেন্দ্রকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওরা এনিয়ে কোনওরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেয়নি। এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার মালদা জেলার ক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় করে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করে চলেছে। যার মধ্যে মানিকচক ব্লকের ভুতনি রয়েছে। সেখানেও গত বছর থেকে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে।

অশান্তির আশঙ্কা থাকলে গ্রেফতার করা হোক হুমায়ুন কবীরকে, রাজ্যকে পরামর্শ রাজ্যপালের

রাজ্যের একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "সম্প্রতি রাজ্য সরকার বিভিন্ন জেলায় ২১০ টি মোবাইল স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরি করে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ মানুষ পরিষেবা পেয়েছে। জেলা থেকে ব্লক স্তরে এই মোবাইল স্বাস্থ্য কেন্দ্র রোগীদের পরিষেবা দিয়ে চলেছে। এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার পাচ্ছেন। এক কোটিরও বেশি কন্যাশ্রী দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যসাথীতে যে পাঁচ লক্ষ টাকা সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে, তা অন্যান্য রাজ্যে নেই বললেই চলে। বরঞ্চ একটি রাজ্যে এককালীন মহিলাদের ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে ভোট মিটতেই অন্যায় ভাবে বুলডোজার চালিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘর বাড়ি ভেঙে ফেলছে। অথচ এরাজ্যে তৃণমূল সরকার মাসে এক হাজার করে হলেও বছরে ১২ হাজার এবং পাঁচ বছরের ষাট হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এদিন গাজোলের সভা শেষ করে তৃণমূলনেত্রী হেলিকপ্টারে ফিরে যান বহরমপুরে।

'চাকরি খাওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়, ৩২ হাজারের চাকরি বহাল রাখার রায় ঘোষণা হতেই

CM Mamata banerjee West Bengal SIR 2025