বাবার পরিচয় দিতে না পারার ভয়, SIR আতঙ্কে শেষমেশ বিষপান বধূর

Malda News: ভোটার তালিকায় গরমিল, আর সেই নথির অভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর আতঙ্কে বিষপান করে আত্মঘাতী মালদার গৃহবধূ। অন্যদিকে, ৩৫ হাজার মানুষের শুনানিতে রণক্ষেত্র হরিশ্চন্দ্রপুর। এসআইআর (SIR) আতঙ্কে প্রাণহানি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় উত্তাল মালদা।

Malda News: ভোটার তালিকায় গরমিল, আর সেই নথির অভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর আতঙ্কে বিষপান করে আত্মঘাতী মালদার গৃহবধূ। অন্যদিকে, ৩৫ হাজার মানুষের শুনানিতে রণক্ষেত্র হরিশ্চন্দ্রপুর। এসআইআর (SIR) আতঙ্কে প্রাণহানি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় উত্তাল মালদা।

author-image
Madhumita Dey
New Update
Malda housewife suicide  ,SIR hearing panic West Bengal  ,Banoti Rajbanshi death Malda,  Harishchandrapur SIR hearing chaos,  Voter list correction death,মালদায় গৃহবধূর আত্মহত্যা  ,এসআইআর শুনানি আতঙ্ক, SIR Hearing Panic) বানোতি রাজবংশী মৃত্যু,  হরিশ্চন্দ্রপুরে শুনানিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা  ,ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্ক

Malda News: ফের এসআইআর আতঙ্কে আত্মঘাতী বধূ।

ভোটার তালিকায় নামের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে চরম পরিণতি। অভিযোগ, ‘বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে’, এই আতঙ্কে বিষপান করে আত্মঘাতী হলেন এক রাজবংশী গৃহবধূ। শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরাতন মালদা থানার মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের মালঞ্চ এলাকায়। মৃতার নাম বানোতি রাজবংশী (৩৫)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, মালদার (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুরে শুনানিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি।

Advertisment

আতঙ্কের নাম ‘এসআইআর’

মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বানোতি দেবীর যখন দুই বছর বয়স, তখনই তাঁর বাবা-মা মারা যান। দাদুর বাড়িতে বড় হওয়া বানোতির কাছে বাবা-মায়ের পুরনো কোনও নথি (ভোটার বা আধার কার্ড) ছিল না। সম্প্রতি ভোটার তালিকায় তথ্যের গরমিল থাকায় তাঁকে SIR (Special Inquiry Report) শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন- ছেলের হাতে ছিল শুনানির নোটিশ, ফিরল বাবার নিথর দেহ! সিঙ্গুরে শোকের ছায়া

বিএলও-র পক্ষ থেকে বাবা-মায়ের নথি চাওয়া হলেও হন্যে হয়ে ঘুরেও তা জোগাড় করতে পারেননি তিনি। স্বামী সোমেশ রাজবংশীর অভিযোগ, "আমার স্ত্রীর মনে ভয় ঢুকে গিয়েছিল যে নথি না দিলে সরকার ওকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। সেই আতঙ্ক আর তথ্যের খোঁজে আত্মীয়দের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে শেষমেশ বাড়িতে রাখা কীটনাশক খেয়ে নেয় ও।"

হরিশ্চন্দ্রপুরে হুলুস্থুল, অসুস্থ বৃদ্ধ-মহিলারা

গৃহবধূর আত্মহত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক অফিসে শুনানিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, এদিন তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে একদিনে (election commission) শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষের চাপে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কে আগে ঢুকবে তা নিয়ে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। ভিড়ের চাপে পিষ্ট হয়ে দুই মহিলাসহ বেশ কয়েকজন বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে হয়।

আরও পড়ুন- Mukul Roy: স্বস্তিতে মুকুল রায়, বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট

শুরু রাজনৈতিক তরজা

এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র আশীষ কুণ্ডু বলেন, "কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আর কত প্রাণ নেবে? হেয়ারিং-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে কেন্দ্র।" বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় পাল্টা তোপ দেগে বলেন, "তৃণমূলই সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আতঙ্কিত করছে। মানুষ ভয় পাচ্ছে ওদের অপপ্রচারের জন্য।" তবে গোটা জেলা জুড়ে উত্তেজনা থাকলেও মালদার জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

Death SIR Malda election commission