/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/24/malda-kolom-utsob-prachin-pen-pradarshoni-2026-01-24-19-43-50.jpg)
সোনায় মোড়া পেন থেকে ইন্দিরা গান্ধীর সাক্ষরের সাক্ষী....
কোনও পেন সোনার নিব দিয়ে তৈরি। আবার কোনও পেন রয়েছে চাদির ওপর হাতির দাঁতের তৈরি । এক ঝলক দেখলেই যেন মনে হয় এসব পেন একসময় ব্যবহার করেছেন রাজরাজারা। শুধু তাই নয় , ব্রিটিশ আমলের নীলকর সাহেবদের ব্যবহৃত পেন যেমন রয়েছে। ঠিক তেমনি বাংলার বিখ্যাত ফুটবলার চুনি গোস্বামী থেকে শৈলেন মান্না তাদের অটোগ্রাফ দেওয়া পেনও রয়েছে। একইভাবে মালদার প্রাক্তন প্রয়াত রেলমন্ত্রী গনিখান চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সেই স্বাক্ষর করা পেন আজও জ্বলজল করছে মালদা লাইব্রেরিয়ান সুবীর কুমার সাহার সংগ্রহশালায়।
আরও পড়ুন- রাজ্যে ডিজিপি নিয়োগ নিয়ে ফের নতুন বিতর্ক, রাজীব কুমারের নাম সুপারিশেই 'তোলপাড়'!
প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি এরকম পুরনো যুগ যুগান্তর আমলের পেনের সম্ভার নিয়ে কলম উৎসব উদ্যোগ নিলেন সুবীরবাবু । সরস্বতী পূজা উপলক্ষে শনিবার মালদা রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দির এই এই কলম উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। একদিনের এই কলম উৎসবের প্রদর্শনীতে পড়ুয়ারা এমন পুরনো আমলের সংগৃহীত পেন দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন। বর্তমান সময়ে পেনের প্রচলন কমতে বসেছে। সে বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন লাইব্রেরিয়ান সুবীর বাবু। তবে এদিনের এত পুরনো আমলের পেন দেখে যেন মুগ্ধ হয়ে গিয়েছেন পড়ুয়া থেকে তাদের অভিভাবকেরা।
একদিনের এই কলম উৎসবের উদ্বোধন করেন মালদা রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ তপোহারানন্দজী। তিনি বলেন, সুবীরবাবুর পেনের সংগ্রহশালা এদিন এই স্কুলে প্রদর্শনী হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের পেন এবং তার ব্যবহার সম্পর্কেও তিনি পড়ুয়াদের অবগত করেছেন , সত্যি এটা প্রশংসনীয়। আমরাও চাই সুবীরবাবুর মতোন সকলেই পেনের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হোক। আগামী ভবিষ্যতের জন্য এদিনের কলম উৎসবের গুরুত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন- ফের SIR নিয়ে কমিশনকে নিশানা, আরও বেপরোয়া তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম
উল্লেখ্য, মালদার ইংরেজবাজার পুরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রীনপার্ক এলাকার বাসিন্দা সুবীর কুমার সাহা। তিনি পেশায় লাইবেরিয়ান। পরিবারে তার স্ত্রী মধুলেখা সাহা এবং একমাত্র মেয়ে সুচিস্মিতা সাহা রয়েছে। একদিনের এই কলম উৎসব প্রদর্শনীতেই বিভিন্ন সংগৃহীত পেন সম্পর্কেও পড়ুয়াদের অবগত করেন সুবীরবাবু। এদিনের এই কলম উৎসবের উদ্বোধন করেন রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের তাপোহরানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, এমন প্রদর্শনী সত্যিই অভিনব। যিনি এত বিপুলসংখ্যক পেন সংগ্রহ করেছেন তাঁর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ছাত্র-ছাত্রীরা এসব দেখে উপকৃত হবে।
একইসঙ্গে তাঁদের কলমের প্রতি যত্ন, আগ্রহ ও আকর্ষণ বাড়বে। উল্লেখ্য, এদিন প্রাচীন আমলের হারিয়ে যাওয়া খাগের কলম, দোয়াত থেকে শুরু করে রাজআমলের রকমারি ও সুদৃশ্য নানা পেন চাক্ষুস করার সুযোগ এই কলম উৎসবে সুযোগ পান স্কুল পড়ুয়ারা। সোনার প্রলেপ দেওয়া পেন, হাতির দাঁতযুক্ত পেন, ম্যাজিক পেন, বাঁশের পেন, খাগের কলম, দেশ-বিদেশের নামিদামী প্রায় সমস্ত পেন নজর কাড়ছে এই উৎসবে। প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে প্রাচীন আমল থেকে বর্তমান ডিজিটাল যুগ পর্যন্ত কলমের বিবর্তনকে। কলম উৎসবের অন্যতম আয়োজক সুবীর সাহা জানিয়েছেন, তাঁর সংগ্রহে রয়েছে দেশ-বিদেশের অন্তত পাঁচ হাজার কলম।
ছাত্র বয়স থেকেই তিনি এই পেন সংগ্রহের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন । প্রায় ৩৫ বছর ধরে পাঁচ হাজারেরও বেশি বিভিন্ন আমলের পেন জোগাড়ের পর বাড়িতেই আস্ত একটি সংগ্রহশালা তৈরি করে ফেলেছেন। পেনের গুরুত্ব সম্পর্কে পড়ুয়াদের বোঝাতেই তিনি এদিনে এই কলম উৎসবের আয়োজন করেন। সুবীর বাবুর আক্ষেপ বর্তমান ডিজিটাল যুগে পেনের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। মানুষ এখন মোবাইল , ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেই যেন বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন- ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’-তে কত নাম বাদ? সুপ্রিম নির্দেশের পর আজই তালিকা প্রকাশ কমিশনের?


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us