/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/06/malda-road-accident-dumper-hits-toto-woman-infant-dead-2026-02-06-20-11-00.jpg)
ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় সব শেষ, শোকে পাথর পরিবার
Malda News: শোকের পাহাড় বুকে চেপেই তিনি ছুটলেন প্রশাসনিক শুনানিতে। একদিকে হাসপাতালের মর্গে পড়ে রয়েছে স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুপুত্রের নিথর দেহ, আর অন্যদিকে চাকরি বাঁচাতে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার চরম নির্দেশ। আজ এক মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল মালদা জেলা।
মালদার গাজোল থানার খড়দহিল এলাকার বাসিন্দা এমডি ইয়াসিন আনসারী পেশায় স্কুলশিক্ষক। কালিয়াচকের সুজাপুর নয়মৌজা হাই মাদ্রাসায় কর্মরত ইয়াসিন সপরিবারে সুজাপুরেই থাকতেন। জানা গেছে, তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর নামের বানানে ভুল থাকার কারণে আজ একটি প্রশাসনিক শুনানির ডাক পড়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই গতকাল রাতে স্ত্রী হালিমা খাতুন এবং নয় মাসের পুত্র সন্তান আরিফ হাসানকে নিয়ে টোটোয় চেপে আমবাজার আসছিলেন তাঁরা।
সুস্তানি এলাকায় পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আচমকাই উল্টে যায় টোটোটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় স্ত্রী হালিমার। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুপুত্রকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা তাকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আজ মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যখন মা ও ছেলের ময়নাতদন্ত চলছে, তখন এক বুক যন্ত্রণা নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে ছুটতে দেখা গেল ইয়াসিন আনসারীকে। নিয়মের বেড়াজালে বন্দি শিক্ষক শোক পালনের সময়টুকুও পাননি। নামের বানান সংশোধন না করলে ভবিষ্যতে চাকরির ক্ষেত্রে বড় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে এই আশঙ্কায় বাধ্য হয়েই মর্গে প্রিয়জনদের দেহ রেখে তিনি পৌঁছে যান নির্দিষ্ট দপ্তরে।
এক নিমেষে সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইয়াসিনের সহকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ— প্রত্যেকেই এই ঘটনার বীভৎসতা দেখে বাকরুদ্ধ। একদিকে পথ দুর্ঘটনা কেড়ে নিল প্রাণ, আর অন্যদিকে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা কেড়ে নিল শোক পালনের অধিকার।
বিধানসভায় বেনজির তরজা: সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে অগ্নিমিত্রা-ফিরহাদ সংঘাত
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us